ভারতে গত ২৫ মার্চ থেকে মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সব ধরনের ধর্মীয় উপাসনালয় বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে পর্যায়ক্রমে লকডাউন উত্তোলনের আনলক-১ পর্বে প্রবেশের সঙ্গে ধর্মীয় স্থানগুলো উন্মুক্ত করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে কভিড-১৯-এর সংক্রমণ ঠেকাতে ধর্মীয় স্থানগুলোতে তাপমাত্রা পরিমাপ, স্যানিটাইজার ও মাস্ক ব্যবহারসহ একগুচ্ছ প্রটোকল মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। কিছু নির্দেশনা সরকার দিলেও বাকিগুলো ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান এবং নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই পালন করছে। এভাবে নভেল করোনাভাইরাস প্রতিটি ধর্মের ঐতিহ্য, রীতিনীতিতে কিছু পরিবর্তন আনছে।
মসজিদ, মন্দির, গির্জা, গুরুদুয়ারায় বিশেষ অনুষ্ঠান, উৎসব ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনের জনসমাগম ব্যবস্থাপনা করা সবচেয়ে জটিল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। দিল্লির জামা মসজিদে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হলুদ স্টিকারের মাধ্যমে মুসল্লিদের প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করে দেয়া হয়েছে। মসজিদটির উপশাহি ইমাম সৈয়দ শাবান বুখারি বলেন, যদিও এখন আমাদের মসজিদে আসা লোকের সংখ্যা নিয়ে কোনো বাধা নেই, তবুও আমরা আজানের কিছুক্ষণ পরই নামাজ শুরু করি যেন বহু মুসল্লি ধীরে ধীরে একসঙ্গে জড়ো না হন।
নয়াদিল্লির ঝাদেওয়ালা মন্দির এবং সাঁই বাবা মন্দিরসহ জনপ্রিয় মন্দিরগুলোতে একই রকমভাবে শারীরিক দূরত্বের চিহ্ন দেয়া হয়েছে। এ জাতীয় নির্দেশনা দেশটির ধর্মীয় স্থানগুলোতে অনুসরণ করা হচ্ছে। পাঞ্জাবের মোহালির শিরোমণি গুরুদুয়ারা প্রবন্ধক কমিটির স্বতন্ত্র সদস্য হরদীপ সিং ব্যাখ্যা করেন, বেশির ভাগ গুরুদুয়ারায় হাত দিয়ে গুরুর আশীর্বাদযুক্ত মিষ্টি পুডিংয়ের প্রসাদ বিতরণ করা হয়, যা পারস্পরিক বন্ধনের প্রতীক। কিন্তু এটা এখন পরিবর্তন করতে হচ্ছে। প্রসাদ বিতরণ করা স্বেচ্ছাসেবীরা এখন ডিসপোজেবল গ্লাভস ব্যবহার করবেন এবং চামচের মাধ্যমে সেগুলো বিতরণ করবেন।
যদিও সরকার ধর্মীয় স্থানগুলোতে প্রসাদ বিতরণ বন্ধ করতে চেয়েছিল, তবে হরদীপ সিং বলেন, ভারতজুড়ে ধর্মীয় গুরুদুয়ারাগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি তদারকির জন্য প্রবন্ধকের মতো কমিটি করা উচিত। রান্নার তাপ খাবারকে নিরাপদ করে তোলে। তবে সমস্যাটি বিতরণের ক্ষেত্রে এটা যথাসম্ভব নিরাপদ করার জন্য আমরা সব রকম সতর্কতা অবলম্বন করছি।
মহামারীর কারণে পুরোহিতের মাধ্যমে হিন্দু ভক্তদের কপালে সিঁদুর দেয়াও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নয়াদিল্লির ঝাদেওয়ালা মন্দিরে মহামারী সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এ ঐতিহ্য স্থগিত থাকবে। সংবাদ সংস্থা এএনআই অনুসারে, মন্দিরগুলোতে যেখানে সম্ভব সেখানে শারীরিক যোগাযোগ এড়াতে প্রবেশদ্বারেই ঘণ্টা বেঁধে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে নামাজের আগে মসজিদ প্রাঙ্গণে ওজু করার পরিবর্তে বাড়ি থেকে ওজু করে আসার জন্য বলেছে জামা মসজিদ কর্তৃপক্ষ। একইভাবে দর্শনার্থীরা গুরুদুয়ারাগুলোতে প্রবেশের আগে একটি পা পানিতে ডুবিয়ে রাখতেন। সেই পানিতে এখন জীবাণুনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে।
সব ধর্মীয় স্থানে মাস্ক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং নিয়মিত স্থানগুলো জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেমন প্রতিবার নামাজের পর মসজিদগুলো জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে। জামা মসজিদে এ উদ্দেশ্যে একটি ডেডিকেটেড স্যানিটাইজেশন মেশিন রাখা হয়েছে। মসজিদ ও গুরুদুয়ারাগুলোতে মাদুর সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নামাজের সময় মুসল্লিদের নিজেদের বাসা থেকে জায়নামাজ সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। গুরুদুয়ারাগুলোতে ওয়াকওয়েতে কেবল মাদুর থাকবে। ধর্মীয় এ স্থানগুলোতে তাপমাত্রা পরিমাপেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে করোনাভাইরাস মহামারী ভারতের ধর্মীয় স্থানগুলোর অনেক চেনা চিত্র পরিবর্তন করে দিয়েছে।
স্ক্রল ডটইন





