বিশ্বজুড়ে ভ্যাকসিন দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা সংস্থাগুলোর মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না। তাদের ভ্যাকসিন পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ইয়ান হাইডন মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের কাছে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। উচ্চমাত্রায় ভ্যাকসিন গ্রহণের পর তিনি কিছু মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভোগ করেছেন। তবে সেগুলো খুব বেশি সময় স্থায়ী ছিল না। গত বৃহস্পতিবার রাতে হাইডন জানিয়েছেন, ২৫৯ মাইক্রোগ্রাম ডোজ পাওয়ার পর তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে উচ্চমাত্রার জ্বর, বমি বমি ভাব অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তিনি বলেন, সমস্যাগুলো প্রায় একদিন স্থায়ী হয়েছিল এবং সেগুলোর মধ্যে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাটের বেশি জ্বর, ক্লান্তি, পেশি ব্যথা, বমি বমি ভাব ইত্যাদি ছিল। চিকিৎসকরা যেন আমার দিকে নজর রাখতে পারেন, সেজন্য কিছু পরীক্ষাও করা হয়। তবে আমি যেমনটা বলছিলাম, প্রায় একদিনের মধ্যেই সেগুলো সেরে যায় এবং সেই সংক্ষিপ্ত অসুস্থতা বাদ দিয়ে আমার সত্যিই কোনো সমস্যা হয়নি।

বায়োটেকনোলজি সংস্থা মডার্না যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের তৈরি ভ্যাকসিনটি প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবী সবার মধ্যে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি কয়েছিল।

গত মঙ্গলবার নিউজ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত এই প্রাথমিক ফলাফলগুলো দেখিয়েছে, এ ভ্যাকসিনটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরে প্রতিরোধক্ষমতা সৃষ্টির পাশাপাশি ক্লান্তি, শীতলভাব, মাথাব্যথা, পেশি ব্যথা, ইনজেকশনের স্থানে ব্যথার মতো হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে। এটাই প্রথম মার্কিন ভ্যাকসিন হিসেবে পিয়ার-রিভিউড মেডিকেল জার্নালে ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

ভ্যাকসিনটি এ মাসের শেষের দিকে তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের আগে এটাই ভ্যাকসিনটির চূড়ান্ত পরীক্ষা।

সিএনএন