কয়েক মাস ধরে বিশ্বব্যাপী মহামারীর এই কালে মানুষ ঘুমের সময়ের পরিবর্তন, ঘুমের সমস্যা, নির্ঘুম কাটানো বা ঘুমের মধ্যে বাজে স্বপ্ন দেখা নিয়ে অভিযোগ করে আসছে এবং বিজ্ঞানীরা এ ঘটনাগুলোর অনুসন্ধান করছেন। আপনি যেমন ঘরে থাকার নির্দেশনা এবং লকডাউন নিয়ে চিন্তা করতে থাকেন, তখন এমন চিন্তাগুলো আপনাকে পুরোপুরি হতাশার মধ্যে ফেলে দিতে পারে।
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক গবেষণায় পরামর্শ দেয়া হয়েছে যে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার নির্দেশনাগুলো অনেক মানুষকে রাতের বিশ্রামের জন্য অনেক বেশি সময় করে দিয়েছে, তবে এটা কারো কারো ক্ষেত্রে ঘুমের গুণমান আরো খারাপ করে দিতে পারে। অস্ট্রিয়া, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডের ৪৩৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর করা সমীক্ষায় পরামর্শ দেয়া হয়েছে, সামগ্রিকভাবে তারা এখন প্রতি রাতে ১৫ মিনিট বেশি ঘুমায়, তবে তারা ঘুমের গড় গুণমান খারাপ হওয়ার কথা বলেছেন।
এই সমীক্ষাটি মার্চের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের শেষ অবধি ছয় সপ্তাহ ধরে পরিচালিত হয়েছিল। এটা এমন সময় ছিল, যখন বেশির ভাগ দেশ কভিড-১৯-এর সংক্রমণ রোধে কঠোর ব্যবস্থা কার্যকর করেছিল। সে সময় বিদ্যালয় ও বেশির ভাগ দোকান বন্ধ থাকার পাশাপাশি ভ্রমণ ও সামাজিকীকরণ সীমাবদ্ধ হওয়ার ফলে জনজীবন ভার্চুয়াল ব্যবস্থায় আটকে পড়েছিল।
অল্প ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ঘুমের চেয়ে মানুষের সামাজিক যোগাযোগে অগ্রাধিকার দেয়ার প্রবণতা বেশি থাকে এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার সময় কিছু মানুষকে আরো বেশি ঘুমাতে সহায়তা করে। আর এতে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নতুন ধরনের প্রভাব পড়তে থাকে।
সুইজারল্যান্ডের বাজেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘুম গবেষক এবং কগনিটিভ নিউরোসায়েন্টিস্ট ক্রিস্টিন ব্লুম বলেছেন, সাধারণত আমরা আশা করি, সামাজিক যোগাযোগ হ্রাসের সঙ্গে ঘুমের মানের উন্নতি যুক্ত থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের নমুনায় সামগ্রিকভাবে ঘুমের গুণমান হ্রাস পেয়েছে। আমরা মনে করি যে অভূতপূর্ব কভিড-১৯ লকডাউন চলাকালে উল্লেখযোগ্যভাবে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের সামাজিক যোগাযোগের সময়সূচি শিথিল করার মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত ঘুমের জন্য বেশি সময় পান। তাই বাজে চিন্তা ছেড়ে এটাকে উদযাপন করা উচিত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর করা ছোট একটি গবেষণায় আবার ভিন্ন ফলাফল দেখা গেছে। গবেষণাটিতে দেখা গেছে, মহামারী চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসের পাশাপাশি ঘুমের সময়সূচি মেনে চলেছে এবং প্রতি সপ্তাহে তারা প্রায় আধা ঘণ্টা বেশি ঘুমিয়েছে। এমনকি ছুটির দিনে ১৩৯ জন শিক্ষার্থীর দলটি গড়ে ২৪ মিনিট বেশি ঘুমিয়েছে।
গবেষকরা জরিপে পেয়েছেন, বাস্তবে বাড়িতে থাকার নির্দেশ কার্যকর হওয়া পর ৯০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী আগের ৮৪ শতাংশের তুলনায় প্রতি রাতে ৭ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় ঘুমিয়েছে।
কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজিস্ট কেন রাইট বলেছেন, আমাদের গবেষণাগুলো আরো প্রমাণ দেয় যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘুমের দুর্বলতাসংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানযোগ্য। আর এটি কোনো ছোট বিষয় নয়।
অপর্যাপ্ত ঘুম এবং অনিয়মিত ঘুমের সময়সূচি হূদরোগ, স্ট্রোক, ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস, হতাশা, উদ্বেগসহ জটিল স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো সৃষ্টির জন্য দায়ী।
কভিড-১৯ মহামারী থেকে ভালো কিছু আসবে না, তবে এটা কার্যকর ঘুমের বিষয়ে হস্তক্ষেপগুলো অধ্যয়ন করার উপযুক্ত সুযোগ হতে পারে। স্নায়ুবিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল ঘোষণা দিয়েছে যে মহামারী চলাকালীন বিশ্ব কীভাবে ঘুমাচ্ছে, তা তারা পরীক্ষা করে দেখবে।
সায়েন্স অ্যালার্ট





