বিশ্বের প্রথমদিকের কঠোর লকডাউনে থাকা দেশের একটি দক্ষিণ আফ্রিকা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। দেশটিতে সংক্রমণের হার এখন বেশ কমে এসেছে। চলতি সপ্তাহে দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা জাতীয় টেলিভিশনে হাজির হয়ে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঝড়ের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে অবস্থান শিথিল করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি ঘোষণা করেছিলেন, আমরা এ মহামারীর সবচেয়ে খারাপ পর্বটি কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। প্রতিদিন নতুন করে ১ লাখ মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পর্যায় থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা গর্বের সঙ্গে নতুন পর্যায় শুরু করেছে।
প্রেসিডেন্ট ও তার বৈজ্ঞানিক পরামর্শদাতারা এটিকে ‘নিউ নরমাল’
হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রায় সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরায় শুরু হচ্ছে, পর্যায়ক্রমে সীমান্ত খুলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের প্রথম ও কঠোর লকডাউন শেষ হচ্ছে। দেশটির জন্য এটা একটি তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনার মতো।
সরকারের কভিড-১৯ উপদেষ্টা প্যানেলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সেলিম আব্দুল করিম বলেন, আমার মনে হয়েছিল আমাদের ইতালির মতো অবস্থা হবে। কিন্তু পরিস্থিতি ততটা খারাপ হয়নি। ভাইরাসটিতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু সবচেয়ে আশাবাদী মডেলিংয়ের পূর্বাভাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম।
কভিড-১৯ মহামারীর আগে দেশটির এইচআইভি ও যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটিতে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রাদুর্ভাব সামাল দেয়ার ক্ষেত্রে কিছু গুরুতর ত্রুটির ঘটনা ঘটেছে। তাহলে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার আপেক্ষিক সাফল্যের পেছনের কারণগুলো কী রকম?
এক্ষেত্রে অধ্যাপক করিম নয়টি কারণ বা অনুমানের কথা বলেছেন। এগুলো কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে নয়, পৃথিবীর অনেক দেশের ক্ষেত্রেই সত্য। তার প্রথম বিষয়টি হলো শনাক্ত কম করা, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য এটা বিশেষ একটি সমস্যা। দ্বিতীয়ত, সীমিত ক্ষমতা ও সংস্থানগুলোর কারণে পরীক্ষা কম করা। তৃতীয় কারণটি হলো ডেমোগ্রাফিকস এবং অনেক দেশের মতো আফ্রিকার তরুণ জনসংখ্যা। এর পরই আসে ভাইরাসটি কীভাবে আফ্রিকায় পৌঁছেছিল সেই বিষয়টি। ভ্রমণকারীরা জনসংখ্যার সঙ্গে মিশে না যাওয়ায় দেশটির কর্তৃপক্ষ সংক্রমণের প্রথম ঝড় তুলনামূলক কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করতে পেরেছিল। পঞ্চম কারণটি হলো মহাদেশজুড়ে প্রারম্ভিক লকডাউন। এছাড়া দেশটির সাফল্যের পেছনে পূর্ব বিদ্যমান প্রতিরোধক্ষমতা, উচ্চ তাপমাত্রার সম্ভাব্য প্রভাব এবং উচ্চতার সম্ভাব্য ভূমিকা রয়েছে।
বিবিসি





