নভেল করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত গোটা পৃথিবী। কভিড-১৯-এর প্রথম ধাক্কা পার করার পর এখন বিশ্বব্যাপী অনেক দেশ দ্বিতীয় ঢেউয়ের মুখোমুখি হয়েছে। এরই মধ্যে অনেককে নতুন করে লকডাউনে ফিরে যেতে হয়েছে। কোনো কোনো দেশ প্রথমবারের চেয়ে দ্বিতীয়বারের লকডাউনে কঠোরতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এ মহামারীর কবল থেকে দ্রুত বের হওয়ার জন্য সবদিক থেকেই চলছে নানামুখী গবেষণা। যেসব গবেষণার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে করোনার স্বরূপ উন্মোচনের মাধ্যমে ভাইরাসের বিস্তৃতিতে লাগাম টেনে ধরা। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন একটি গবেষণা জানাচ্ছে, দেশে দেশে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করোনা রোগীদের মৃত্যুঝুঁকিতে ব্যাপকভাবে পার্থক্য রয়েছে। একই গবেষণা আবার এও বলেছে যে এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার সেই ৪৫টি দেশে যাদের বয়স ৬৫ বছরের নিচে তাদের মৃত্যুঝুঁকি অনেকটা একই রকম। গত সোমবার নেচার জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।
প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই অবশ্য আমরা জানতে পারি যে তরুণদের চেয়ে বয়স্ক লোকের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এমনকি মারাত্মক অবস্থা কিংবা মৃত্যুঝুঁকির ক্ষেত্রেও বয়স্ক লোকেরা ছিলেন বিপজ্জনক অবস্থানে। কভিড-১৯ বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য কত বেশি মরণঘাতী তার প্রমাণও আমরা গত ১০ মাসের বেশি সময় ধরে হাতেনাতে পেয়েছি। তবে নতুন এ গবেষণা মতে, মৃত্যুর এ ঝুঁকিও পৃথিবীর সব দেশে একই রকম নয়। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে নানা প্রভাবের কারণে এ ঝুঁকিতে ভিন্নতা রয়েছে।
পরিমাপের একটি উপায়, যা পরিচিত ইনফেকশন ফ্যাটালিটি রেশিও (আইএফআর) নামে, যেখানে দেখা গেছে সংক্রমিতদের মাঝে যে অংশ মৃত্যুবরণ করেছে তাদের ০.০০১ শতাংশ হচ্ছে ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশু। এ মডেল অনুসারে, বয়সের পরিমাণ প্রতি পাঁচ বছর বয়স বাড়ার সঙ্গে এ হার ০.৫ শতাংশ করে বেড়েছে। অর্থাৎ বয়স বাড়ার সঙ্গে কভিড-১৯-এ মৃত্যুবরণ করার আশঙ্কাও অনেক বেড়ে যায়।
জানা গেছে, যাদের বয়স ৮০ বছরের ওপরে তাদের ক্ষেত্রে এ আইএফআর গড়ে ৮.২৯ শতাংশ পর্যন্ত। পাশাপাশি এ গবেষণা মতে, বিভিন্ন দেশে আইএফআর হার বিস্তৃতভাবে ২.৫ শতাংশ থেকে ১৫.৬ শতাংশ পর্যন্ত দেখা গেছে। তারা অবশ্য প্রত্যেক দেশের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যাটি কত তা উল্লেখ করেনি। এ গবেষণায় আরো দেখা গেছে যে মৃত্যুঝুঁকি নারীদের চেয়ে পুরুষদের মাঝে বেশি। এর আগেও একাধিক গবেষণা অবশ্য পুরুষদের বাড়তি ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছিল।
বলা হচ্ছে, নার্সিং হোম এবং দীর্ঘস্থায়ী কেয়ার সেটিংসের মাঝে বড় আকারের প্রাদুর্ভাব দেশের আইএফআরের হারকে আকস্মিকভাবে পরিবর্তিত করতে পারে। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, কোনো কোনো দেশের কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে ২০ শতাংশের মৃত্যুর ক্ষেত্রে নার্সিং হোমগুলোই দায়ী। এ তালিকায় সুইডেন ও ব্রিটেনও অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি আবার দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশে অনেক কম। এমনকি এ গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্রান্সের মতো দেশকেও আইএফআর হারের কারণে ভুগতে হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস





