সবচেয়ে বেশি সুরক্ষামূলক হিসেবে বিবেচিত এন-৯৫ মাস্ককে যিনি এতটা কার্যকরী করেছিলেন, তিনি করোনাভাইরাস মহামারীর দুই বছর আগে অবসর নিয়েছেন। কিন্তু তার পরও যখন তাকে স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন তিনি পুনরায় কাজে ফিরে আসতে দুবার ভাবেননি। বলা হচ্ছে তাইওয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান বিজ্ঞানী পিটার চাইয়ের কথা।
তিনি এন-৯৫ মাস্কের জন্য সিন্থেটিক ফ্যাব্রিক আবিষ্কার করেছিলেন, যা করোনাভাইরাসকে আটকাতে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিবন্ধক হিসেবে বিবেচিত হয়।
মাস্কের সংস্পর্শে আসা ৯৫ শতাংশের বেশি কণা অবরুদ্ধ করতে পিটার চাই ইলেকট্রোস্ট্যাটিক চার্জিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ফিল্টারটি তৈরি করেছিলেন। সহজভাবে বললে, মাস্কের ফিল্টারটিতে পজিটিভ ও নেগেটিভ উভয় চার্জ থাকে। এটা ভাইরাস থেকে ব্যাকটেরিয়ার মতো নিরপেক্ষ কণাগুলো আকর্ষণ করতে পারে এবং সেটি মাস্ক পার হওয়ার আগে কণাগুলোকে আটকে ফেলে।
কিন্তু যখন চাই শুনলেন যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়া চিকিৎসক ও নার্সরা এন-৯৫ মাস্কের সরবরাহের অভাবে ভুগছেন, তখনই তিনি কাজে ফিরে আসেন। তিনি ব্যবহূত মাস্কগুলো জীবাণুমুক্ত করার নতুন উপায় খুঁজতে দিনে ২০ ঘণ্টা করে কাজ করেছেন। রোদে শুকিয়ে, ওভেনে গরম করে, সাবানে ধুয়ে এবং বাষ্প দিয়ে তিনি এগুলোকে পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে সর্বোত্তম পদ্ধতি হিসেবে তিনি খুঁজে পান মাস্কগুলোকে ১৬০ ডিগ্রি শুকনো উত্তাপে ৩০ মিনিট রেখে দেয়া, যা ওভেনে ঝুলিয়ে দিয়ে খুব সহজেই করা সম্ভব। যদিও এটা তার পছন্দসই পদ্ধতি নয়।
তিনি একসঙ্গে সাতটি মাস্ক কিনে একেকদিন একটি করে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। একদিন ব্যবহার করে বিচ্ছিন্ন স্থানে ঝুলিয়ে রেখে সাতদিন পর আবার সেটি ব্যবহার করতে বলেন। আর এতদিনে সেটিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।
সিএনএন





