নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে বর্তমানে ৫০টিরও বেশি দেশ জনগণকে বাড়ির বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করেছে। এছাড়া কঠোর বিধিমালা ছাড়াই বিশ্বজুড়ে বেশির ভাগ দেশের নাগরিকই নিজের ও অন্যের সুরক্ষার জন্য মাস্ক ব্যবহার করছে। ‘মাস্ক ব্যবহার করে শ্বাস নেয়া কঠিন’ এবং ‘সঠিকভাবে কথা বলতে পারি না, শব্দ বের হয় না’—এ দুটি সাধারণ অভিযোগ। এদিকে আবার দাতব্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে মাস্ক পরা সাধারণ ও ব্যাপক হয়ে উঠলে বধির সম্প্রদায়ের সদস্য এবং শ্রবণজনিত সমস্যাযুক্তরা যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপদে পড়তে পারে।
বিশ্বজুড়ে অনেক নারী বাড়ির বাইরে বের হলে মুখে ওড়না, নিকাব বা বোরকা পরেন। যদিও মাস্কের থেকে এগুলো আলাদা। মাস্ক চিকিৎসার কারণে ব্যবহার করা হলেও নেকাব বা বোরকা পরা হয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কারণে। উদ্দেশ্য যেটাই হোক না কেন, এগুলো পরা থাকা অবস্থায় কীভাবে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে হয়, তা কি আমরা মুখে ওড়না পরা নারীদের থেকে শিখতে পারি? আর যতটা আমরা ভাবি, সত্যিই কি মাস্কগুলো ততটা আমাদের মিথস্ক্রিয়ায় বাধা দেয়?
লন্ডনের রয়্যাল হলোয়ে ইউনিভার্সিটিতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মুখের অভিব্যক্তি নিয়ে অধ্যয়নরত মনোবিজ্ঞানী রেবেকা ব্রুওয়্যার বলেন, যখন আমরা পুরো চেহারাটি দেখতে পাচ্ছি না, তখন যোগাযোগের সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি ব্যাহত হয়। সৌদি আরবের মতো বোরকা পরা সংস্কৃতিতেও এটা সত্য। আর এ দুটি ব্যবহারের অনুভূতিও আলাদা। কারণ মাস্ক পরলে মুখ গরম হয়ে ওঠে, যেটা ওড়না বা নিকাবের ক্ষেত্রে কম হয়। তাদের এ দুটোর সঙ্গে তুলনা শতভাগ সমান না।
যখন চেহারা অধ্যয়নের কথা আসে, তখন চোখ ও মুখ সর্বাধিক তথ্য প্রকাশ করে কারণ এগুলো সর্বাধিক অভিব্যক্তিপূর্ণ থাকে। কেউ আমাদের কী বলতে চাইছে তা বুঝতে আমরা অবচেতনভাবেই তাদের সম্মিলিত গতিবিধি বিশ্লেষণ করি। তা সত্ত্বেও, প্রতিটি বৈশিষ্ট্য কিছু কিছু বিশেষ আবেগকে তুলে ধরে। মুখমণ্ডল বিশেষ করে সুখের অনুভূতি প্রকাশের জন্য ভালো। যোগাযোগযোগ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চাইলে এ মুখ গোপন করা সমস্যাযুক্ত হতে পারে।
নিকাব বা মাস্ক পরে মুখের অংশ ঢাকা থাকলেও চোখ কিন্তু খোলা থাকে, আর চোখ অবিশ্বাস্যভাবে অনেক কিছু প্রকাশ করতে পারে। যেমন শেক্সপিয়ার বলেছেন, ‘চোখগুলো মনের জানালা’। তাই মনোবিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, মুখ ঢাকা থাকলেও চোখের মাধ্যমে অনুভূতি, বিশ্বাস, আকাঙ্ক্ষা ও উদ্দেশ্য অনুমান করা সম্ভব। তবে শোনার অসুবিধাগুলোর ক্ষেত্রে মুখ ঢেকে রাখা এখনো বড় বাধা। কারণ বিশ্বের জনসংখ্যার অন্তত ৫ শতাংশ জনগণের শ্রবণশক্তির সমস্যা আছে। সুতরাং তাদের ক্ষেত্রে ঠোঁট ও মুখের অভিব্যক্তিগুলো পড়া কথোপকথনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হতে পারে, এমনকি যারাই সাইন ভাষা ব্যবহার করে তাদের ক্ষেত্রেও। এজন্য কিছু দাতব্য সংস্থা বিশ্বাস করে, গণপরিবহন, হাসপাতালকর্মীদের স্বচ্ছ মাস্ক দেয়া হলে বধির সম্প্রদায়ের মানুষের সহায়ক হতে পারে।
বিবিসি





