হলুদ শরীরের সঙ্গে কালো রঙা চার পা। চলাচল করতে পারে যে সমান বা উঁচু-নিচু যেকোনো রাস্তায়। বর্ণনা শুনে প্রথমেই কোনো প্রাণীর কথা মনে হলেও আসলে এটা একটি রোবট। চাকাযুক্ত রোবট নির্মাণ সাইট এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো জায়গাগুলোতে টহল দিতে যেতে পারে না। এমনই শিল্পে ব্যবহারের জন্য গত বছর চার পা-যুক্ত এ রোবটগুলো বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু এরপর কভিড-১৯ মহামারী আঘাত হানায় স্পটস নামের এ রোবটগুলোর সামনে নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।
ছয় মাস ধরে স্পটস সিঙ্গাপুরের কোয়ারেন্টিনে থাকা রোগীদের খাবার সরবরাহ করছে এবং জাপানের বেসবল গেমে যান্ত্রিক বিকল্প হিসেবে নাচ দেখিয়েছে। সিঙ্গাপুরে গত মে মাসে সামাজিক দূরত্ব প্রয়োগকারী কর্মকর্তাকে একজন ছুরিকাঘাত করার পর সিঙ্গাপুরের বিশান-অ্যাং মো কিউ পার্কে নিরাপদ দূরত্ব প্রয়োগকারী হিসেবে স্পটসকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। পার্কে আসা মানুষজনকে আগে থেকে রেকর্ড করা ‘আসুন সিঙ্গাপুরকে সুস্থ রাখি’
সতর্কবার্তাটি মনে করিয়ে দিয়েছিল রোবটটি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন, ব্রিগহ্যাম ও ওম্যানস হসপিটালে একটি আইপ্যাডযুক্ত স্পটস আগতদের অভ্যর্থনা জানায় এবং সম্ভাব্য রোগীদের দূর থেকে স্ক্রিনিং করতে কর্মীদের সহায়তা করে। সেন্সরযুক্ত অন্য স্পটসগুলো রোগীদের তাপমাত্রা গ্রহণ, শ্বাস-প্রশ্বাস পরিমাপ এবং এমনকি রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে দেয়।
স্পটসের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোস্টন ডায়নামিকসের বিজনেস ডেভেলপমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল পেরি বলেছেন, মানুষকে বিপজ্জনক কাজ থেকে সরিয়ে নেয়ার জন্য একটি মেশিনের পরিবর্তন ছিল এ পরীক্ষাগুলো।
মহামারীর পর মানুষের কাজগুলো করতে পারে এমন রোবটগুলোর চাহিদা আকাশ ছুঁয়েছে। গবেষকদের একটি সংস্থা রোবোটিকস ফর ইনফেকশাস ডিজিজের মতে, জুলাইয়ের শুরুতে অন্তত ৩৩টি দেশে মহামারী মোকাবেলায় সরাসরি জড়িত ছিল রোবট। কভিড-১৯ মহামারী শুরুর পর রোবটগুলো দৈনন্দিন জীবনের এমন কাজগুলো করছে, যেখানে মহামারীর আগে তাদের খুব কমই এসব কাজে দেখা গেছে। চলমান এ মহামারী কোনো দিন কেটে যাবে, কিন্তু রোবট সম্ভবত থাকবে।
ডিজাস্টার রোবোটিকস শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী এবং রোবোটিকস ফর ইনফেকশাস ডিজিজের চেয়ার রবিন আর মারফি বলেন, আপনি যখন বিস্তৃত ক্ষেত্রজুড়ে রোবটের ব্যবহার দেখেন, তখন আমি মনে করি এটা আমাদের যুগান্তকারী মুহূর্ত। যে লোকেরা বলত যে খাবার সরবরাহে রোবট ব্যবহার করা বোকামি, এখন তারাই রোবটের মাধ্যমে মুদি পণ্যগুলো পাচ্ছে। ছোট ব্যবসায়ীরাও এগুলো ব্যবহার করছে। আমরা এর আগে এমনটা কখনো দেখিনি। রোবট আরো বিস্তৃত হয়ে উঠছে।
মহামারীর আগে সব ক্ষেত্রে রোবটের প্রবেশ নিয়ে নানা মহল থেকে উদ্বেগ তৈরি হলেও মহামারী সব পরিস্থিতি পরিবর্তন করে দিয়েছে। কীভাবে, কোথায় ও কেন রোবটগুলোকে দৈনন্দিন জীবনে প্রবেশ করানো যায় সে সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে পরীক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে এ মহামারী।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক





