সম্প্রতি শোনা গেল কুইন্সল্যান্ডভিত্তিক বায়োটেক কোম্পানি মাইক্রোবায়ো একটি টেস্ট আবিষ্কার করেছে, যা কিনা বলতে পারবে কোনো ব্যক্তি কভিড-১৯-এর সুপারস্প্রেডার কিনা। এটা শুনতে বেশ চটকদার মনে হলেও কভিড-১৯-এর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এটি কী ধরনের ভূমিকা রাখে, তা বুঝতে আমাদের কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে হবে।
সুপারস্প্রেডার কী?
এটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে সুপারস্প্রেডারের কোনো বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা নেই। কভিড-১৯-এর পরিপ্রেক্ষিতে ‘সুপারস্প্রেডার’
টার্মটি ব্যবহার করা হয় এটা বোঝাতে যে কোনো ব্যক্তি ন্যূনতম সংযোগে অনেক মানুষের মাঝে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে।
অনেকগুলো বিষয় রয়েছে যা কিনা একজন ব্যক্তির সুপারস্প্রেডার হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। এখানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়টি হচ্ছে ভাইরাল লোড, অর্থাৎ একজন ব্যক্তির বহন করা ভাইরাসের পরিমাণ। সাম্প্রতিক ভাবনাটি হচ্ছে উচ্চভাইরাল লোডসম্পন্ন সংক্রামক ব্যক্তি অন্যদের বেশি পরিমাণে সংক্রমিত করতে পারে। যদিও বিষয়টি অত সরলও না।
যখন একজন ব্যক্তি কভিড-১৯ টেস্ট করায়, তখন স্বাস্থ্যকর্মীরা তার গলা ও নাকের পেছন থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। এসব জায়গায় মূলত ভাইরাস অবস্থান করে। এরপর সোয়াভটি প্যাথোলজি ল্যাবে পাঠানো হয়, যেখানে ভাইরাল জিনোমিক উপাদানের অবস্থান পরীক্ষা করে। সেই পরীক্ষায় জানা যায় যে পজিটিভ বা নেগেটিভ কিনা। যেখানে কী পরিমাণ ভাইরাস উপস্থিত আছে তার কোনো ইঙ্গিত থাকে না কিংবা এটি প্রতিলিপি তৈরি করছে কিনা।
নতুন টেস্টটিতে ফেরা যাক
মাইক্রোবায়ো বলছে, নতুন বিকশিত ইনফ্যাক্টআইডি-কভিড-১৯-আর টেস্টটি ‘প্রতিলিপি সক্ষম ভাইরাস’কে শনাক্ত করতে পারে। যার অর্থ এ টেস্ট একজন ব্যক্তি কী পরিমাণ ভাইরাস বহন করছে তার পরিমাণ নির্ণয় করতে সক্ষম।
বর্তমান টেস্টের মতোই সেই টেস্টে ভাইরাসের জিনগত উপাদানের নমুনা প্রয়োজন। এরপর সেই নমুনা সোয়াভ থেকে নেয়া হয়। তারপর সেটি একটি মেশিনের মধ্য দিয়ে ভাইরাস জিনোমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ চিহ্নিত করা হয়, যা ইঙ্গিত দেয় যে ভাইরাসটি জীবন্ত ও প্রতিলিপিযোগ্য কিনা।
ইনফ্যাক্টআইডি-কভিড-১৯-আর টেস্ট দাবি করছে ৯৯ শতাংশ নির্ভুলভাবে প্রতি মিলিলিটারে ১ হাজার ৫০০ টিসিআইডি৫০-এর চেয়ে কম ঘনত্বের ভাইরাসকে শনাক্ত করতে পারে (টিসিআইডি৫০-এর অর্থ টিস্যু কালচার সংক্রামক ডোজ ৫০ শতাংশ)।
এ সমীকরণ বুঝতে পারা হয়তো কঠিন। কিন্তু এটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে এই সীমার নিচে হলে ব্যক্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষায় নিশ্চিত শনাক্ত করা যায়, সে তুলনায় প্রতিলিপিযোগ্য ভাইরাস কম থাকে। তবে কোন ব্যক্তির প্রতিলিপিযোগ্য ভাইরাস নেই এটি তারা নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না। যদি এ সীমার ওপর ফলাফল আসে তবে তার ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা বলতে পারবেন যে ভাইরাস জীবন্ত ও প্রতিলিপিযোগ্য।
ব্যাপার হচ্ছে, টেস্ট সোয়াভে অবস্থানরত প্রতিলিপিযোগ্য ভাইরাসের পরিমাণ পরিমাপ করতে সক্ষম হবে। কিন্তু এর দ্বারা প্রকৃত অর্থে কী বোঝায় এবং কীভাবে টেস্ট এটি অর্জন করবে তা এখনো অনিশ্চিত।
তবে যেসব প্রশ্নের উত্তর আমরা জানি না তা হলো ভাইরাস জিনোমের কোন অংশটি এটি শনাক্ত করবে এবং আমাদের বর্তমান ডায়াগনস্টিক টেস্টের চেয়ে এটি কোথায় আলাদা? কীভাবে ভাইরাসের এ অংশ শনাক্তকরণের প্রতিলিপিযোগ্যতা বা জীবন্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করবে? কীভাবে টেস্টের ফল প্রদর্শিত হবে? কীভাবে বোঝা যাবে যে প্রতিলিপির জন্য চিহ্নিতকরণ সীমার নিচে থাকলে ব্যক্তি আর সংক্রামক নয়?
নতুন টেস্ট ভাইরাস জিনোমের অংশকে লক্ষ করে চালিত হয়, যা কিনা উপস্থিত থাকে যখন মানব কোষের অভ্যন্তরে প্রতিলিপি হতে থাকে। অবশ্য এ টেস্ট কতটা কার্যকর তা এখনই চূড়ান্তভাবে বলা কঠিন।
দ্য কনভারসেশন থেকে সংক্ষেপে অনূদিত





