দুনিয়াকে সংকটে ফেলে দেয়া করোনাভাইরাস তার চেহারা বদল করছে। চীনে যে করোনাভাইরাসের আবির্ভাব ঘটেছিল আজকের দিনের ভাইরাস আর সেটি নয়।

কভিড-১৯ রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসটি সার্স-কোভ-টু নামে পরিচিত, কিন্তু ভাইরাসটি মিউটেশন করছে। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালের হাজারের বেশি পরিবর্তন শনাক্ত করেছেন, যার মধ্যে কেবল একটি তার আচরণ বদলেছে।

বিজ্ঞানীরা এখন যে প্রশ্নটি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন তা হলো এই মিউটেশন করোনাভাইরাসকে আরো বেশি সংক্রামক কিংবা প্রাণঘাতী করে তুলছে কিনা।

তবে করোনাভাইরাস এখনো ফ্লুর তুলনায় ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে। মানুষের মধ্যে ইমিউনিটি ক্ষমতা কম এবং ভ্যাকসিন না থাকায় ভাইরাসটি নিজেকে পরিবর্তনের জোর তাগিদ অনুভব করছে না। সবচেয়ে আলোচিত মিউটেশনটির নাম ডিসিক্সওয়ানফোরজি, ধারণা করা হয় এই মিউটেশনটি হয়েছিল ইতালিতে। তবে বর্তমানে দুনিয়ার প্রায় সবখানেই এই মিউটেশনটি পাওয়া যাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ডা. লুসি ভ্যান ড্রপ বলেন, ভাইরাসের এই মিউটেশন প্রাকৃতিক ঘটনা। এবং এখনো পর্যন্ত ডিসিক্সওয়ানফোরজি অন্যদের তুলনায় বেশি সংক্রামক এমন কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে কিছু প্রত্যক্ষ প্রমাণ জানাচ্ছে এই মিউটেশনটি অপেক্ষাকৃত বেশি সংক্রামক এবং বর্তমানে মহামারীতে এটিই মুখ্য ভূমিকা রাখছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির অধ্যাপক বেট কোর্বার বলেছেন, ডিসিক্সওয়ানফোরজি ভ্যারিয়েন্ট এখন চীনসহ দুনিয়ার সবখানে বেশ দেখা যাচ্ছে। এটা থেকে মনে হয় এটি ভাইরাসের মূল সংস্করণটি থেকে বেশি সংক্রামক। একই সময়ে দুটো ভ্যারিয়েন্ট বিস্তৃত হতে শুরু করলেও ডিসিক্সওয়ানফোরজি সবখানে তার দাপট সৃষ্টি করেছে। তবে যেহেতু করোনাভাইরাসের বিজ্ঞান প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে, তাই গবেষকরা মিউটেশন নিয়ে চূড়ান্ত কথা বলতে আরো অপেক্ষা করতে চান।

বিবিসি