বিশ্বজুড়ে কভিড-১৯-এর দুই হাজারের বেশি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল নিবন্ধিত হয়েছে। যার ৯০ শতাংশ ধনী দেশগুলোতে, এসব দেশে বেশির ভাগ আক্রান্তই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যায়। এই গবেষণা প্রয়োজন এবং এর সঙ্গে গতি ও সহযোগিতার সংযুক্তি দারুণ বিষয়। কিন্তু আমাদের অবশ্যই ফাঁক-ফোকরগুলো মনে রাখতে হবে।
এটা একটা পরিচিত গল্প: সাধারণত ৯০ শতাংশ গবেষণা বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশেরও কম সহায়তা করে। আমার দেশ যুক্তরাজ্যে প্রথম ধাপের অর্থায়ন করা হয়, গবেষণাটি কেবল এখানে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে তার ওপর। বৈশ্বিকভাবে বড় অংকের অর্থের প্রথম ধাক্কাটা ছিল পুরোপুরিভাবে ওষুধ ও ভ্যাকসিনকে লক্ষ্য করে। কিন্তু আমাদের অন্য গবেষণার প্রয়োজন আছে। শহরের বস্তি এলাকাগুলোয় যেখানে অনেক পরিবার একই টয়লেট ব্যবহার করে সেখানে সামাজিক দূরত্ব ও হাত ধোয়ার নীতি প্রয়োগ করার সেরা উপায় কী হতে পারে? যখন মানুষ বাসায় থাকতে কিংবা মেডিকেল সেবা নিতে পারে না, তা কি এজন্য যে তারা জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত বার্তাকে বিশ্বাস করে না, নাকি এজন্য যে জীবিকা নির্বাহের জন্য তাদের উপার্জন করতে হয়?
এই মাসে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কভিড-১৯-এর চিকিৎসায় করা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলো প্রায়ই অনাবশ্যক ও অসমন্বিত ছিল: হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের ছয়জনের একজনের জন্য ম্যালেরিয়ার ওষুধ ব্যবহার করা হয়। স্বাস্থ্য গবেষণায় অর্থায়নকারীদের অবশ্যই একটি পদ্ধতি খুঁজে বের করতে হবে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাপনা এবং অজানা ক্যাটাগরি বিশেষ করে আচরণ বিজ্ঞান ও ডায়াগনস্টিকসে অর্থায়নের জন্য। এটা একই প্রশ্নকে বারবার উপেক্ষা করাকে রোধ করবে। এই অধ্যয়নগুলো করার জন্য আমাদের কম অভিজ্ঞ দলগুলোকে সাহায্য করা প্রয়োজন।
মে মাসে আমি ও আমার দল একটি সহযোগিতামূলক কাজের অংশ ছিলাম। কাজটা ছিল ১৩০টি দেশের চার হাজারের বেশি গবেষকের সঙ্গে জরিপ ও পরামর্শের মাধ্যমে কোন বিষয়টা নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষণা করা প্রয়োজন তা নির্ধারণ করা। উত্তরদাতারা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোতে মনোনিবেশ করেনি। জিম্বাবুয়ের একজন গবেষক জানতে চাইছিলেন কেন কমসংখ্যক মহিলা মাতৃত্বকালীন সেবা নিয়েছিলেন (তারা কি ভয় পাচ্ছিলেন নাকি তারা ভেবেছিলেন ক্লিনিকগুলো কভিড-১৯-এর রোগী দ্বারা ভর্তি হয়ে থাকবে)। পাকিস্তানের একজন স্বাস্থ্যকর্মী এমন প্রমাণ চাইছিলেন যা দেখাবে কখন লকডাউন এবং সামাজিক দূরত্বের মতো বিধিগুলো সবচেয়ে বেশি কার্যকর এবং কীভাবে এগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
যে ফাঁক-ফোকরগুলো সামনে আসে তা ইবোলা ও জিকার সঙ্গে লড়াইয়ে আমার যে অভিজ্ঞতা তার সঙ্গে পরিচিত: তারা কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা, কেস শনাক্তকরণ এবং পাবলিক কমিউনিকেশন নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমাদের এখনই সঠিক প্রশ্নটি সামনে আনতে হবে।
বেশির ভাগ গবেষণা তখনই হবে যখন সংক্রমণের হার ওপরে থাকবে। উদাহরণস্বরূপ অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করে যখন মানুষ প্রথম সংক্রমিত হয়, তাদের হাসপাতালে নেয়ার আগেই। কার্যকর ওষুধ কিংবা ভ্যাকসিন আসার আগে আমরা নির্ভর করতে পারি কেস শনাক্তকরণ, কন্টাক্ট ট্রেসিং এবং জনস্বাস্থ্যবিধি যেমন সামাজিক দূরত্ব এবং ঘরে থাকার নির্দেশের ওপর। তাই আমাদের সাশ্রয়ী ও বাস্তবধর্মী ডায়াগনস্টিক প্রয়োজন। পাশাপাশি শিখতে হবে কোথায় এবং প্রাদুর্ভাবের কোন পর্যায়ে কোন উপায়গুলো সেরা।
স্থান থেকে স্থানের পার্থক্যও আমাদের সাহায্য করতে পারে এটা শিখতে যে মহামারীকে কীভাবে থামানো যাবে। আমরা এখনো জানি না, কেন কভিড-১৯-এ সংক্রমণের সংখ্যা আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় ভিন্ন ভিন্ন হচ্ছে। এমনকি শহরের জনঘনত্ব একই হওয়ার পরও। এটা কি পারিবারিক ডায়নামিকস? জনসংখ্যার উপাত্ত? অন্যান্য রোগ যেমন এইচআইভি, টিবি কিংবা ম্যালেরিয়া প্রভাবশালী হয়ে ওঠে তখন কী হয়? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী? অন্য গবেষণাগুলো কীভাবে সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি ও জনস্বাস্থ্যবিধির ওপর আনুগত্য নির্ধারিত হয় তা প্রকাশ করতে পারে। হস্তক্ষেপগুলো যা সংক্রমণ কমানোর পাশাপাশি আয়ও কমাতে পারে এবং লোকজনকে নিয়মিত চিকিৎসা থেকে আটকাতে পারে। আমাদের গবেষণা করতে হবে কেন ও কীভাবে এ ধরনের হস্তক্ষেপের প্রভাব জনস্বাস্থ্যের সুবিধাকে ছাড়িয়ে যায় তা বোঝার জন্যও।
এ গবেষণাগুলো কেন সম্পন্ন হচ্ছে না? অনেকেই অর্থ ছাড় দেয় গবেষকদের সুখ্যাতি ও সংস্থানগুলোতে প্রবেশের সক্ষমতা অনুসারে। যা কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গবেষকদের জন্য প্রতিযোগিতাকে কঠিন করে দেয়। কোনো কোনো অনুমান অনুসারে, বৈশ্বিক গবেষণার ১ শতাংশেরও কম নেতৃত্ব দেয় স্বল্প আয়ের দেশগুলোর কোনো দল। কিন্তু এখন যেসব গবেষণা শুরু হয়েছে তা আমাদের আরো ভালোভাবে সমন্বয় করা প্রয়োজন।
নেচার থেকে সংক্ষেপে অনূদিত





