এবারের ক্রিসমাস এর আগের ক্রিসমাসগুলোর মতো হবে না। কারণ বছরটিই এক অস্বাভাবিক সময়। এ বাস্তবতা অনেকের মনেই বেদনার জন্ম দেবে। সবার জন্যই এবারের আনুষ্ঠানিকতা অন্য রকম মনে হবে। অস্ট্রেলিয়ার কিছু রাজ্যে করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধ শিথিল হলেও আমরা সবাই একত্র হতে সক্ষম হব না। আমরা আশাবাদী, আমরা আমাদের বেশির ভাগ প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ করব, যদিও আমরা দ্বিধার মধ্যে রয়েছি।
এ বছর আমি পরিবারকে ছাড়া ক্রিসমাস আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ শেষ পর্যায়ে এসে আমরা ভালোভাবেই অনুধাবন করছি যে বাবা-মাকে দেখার জন্য কুইন্সল্যান্ডে যাওয়া সম্ভব হবে না। আমাদের পরিবারে ক্রিসমাসের আয়োজন কখনই বিশাল ছিল না। যদিও পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে হওয়ার আনন্দ সবকিছুকেই ছাপিয়ে যায়। আমি সর্বদা ঐতিহ্যের প্রতি অনুগত ছিলাম না। এমন অনেক বছর গেছে যখন ক্রিসমাসে পরিবারের সঙ্গে থাকার চেয়ে বিদেশে বেড়াতে গেছি। অথচ মেলবোর্নে থেকেও এ বছরে আমি কুইন্সল্যান্ডে থাকা আমার পরিবারকে প্রায় ১২ মাস ধরে দেখতে পারিনি। ক্রিসমাস ডের পরিচিত চাঞ্চল্যের অনুপস্থিতি, সেই উৎসাহ এবার মিস করব।
তবু আমরাই নিজেদের বলছি—আচ্ছা, ঠিক আছে। পরিস্থিতি আমাদের বাধ্য করছে। আমরা একটি সত্যিকারের ক্রিসমাস ট্রি কিনব এবং আমাদের বাড়ি পাইনের ঘ্রাণে পূর্ণ করব। আমরা আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করব এবং অবশ্যই নতুন বছরে আমাদের পরিবারকে দেখতে পাব।
এক দশকেরও বেশি সময় আগে লন্ডনে থাকাকালীন আমি এমন এতিম সন্তানের মতো ক্রিসমাসের অভিজ্ঞতা পেয়েছি। একে অন্যের বাড়িতে জড়ো হওয়া বন্ধুরা ফোনে তাদের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে ব্যয়বহুল ফোন কলে ১০ মিনিটের বেশি সময় দেয়া যেত না। সবাই ফোন করে তাদের প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। তাদের কণ্ঠগুলো ভারী হয়ে আসছিল। যদিও বাকিরা সেটা না দেখার ভান করে সবাইকে উল্লসিত করার চেষ্টা করছিল।
এ বছর সম্ভবত অনেক অস্ট্রেলিয়ান এতিম মানুষদের ক্রিসমাসের অনুভূতি পাবে। কারণ তারা প্রিয়জনের সঙ্গে ক্রিসমাস উপভোগ করার জন্য দেশের মধ্যে বা বিদেশে যেতে পারছে না। আমরা যতটা পারি ঝুঁকি কমিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে জড়ো হব। এটা আমাদের ধারণার চেয়ে আরো বেশি কিছু হতে পারে, আবার কমও হতে পারে।
আমি আমার পরিবারের সঙ্গে জুম কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করব। আমার বাবা-মা, ভাই ও তার পরিবার সেখানে থাকবে। অনলাইনেই এবার আমাদের আনন্দ ভাগাভাগি হবে। আমার বাবার রসিকতাগুলো মিস করব, খাবার খেতে মায়ের জোরাজুরিগুলো এবার উপভোগ করতে পারব না।
আমি জানি আমি একা নই। আমার মতো অনেকেই এবার পরিবারের সঙ্গে কাটানো আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে। যখন একত্র হওয়ার সময় তখনই আমাদের আলাদা থাকতে হচ্ছে। সেই অর্থে এটা আমাদের সময়ের বড়দিন হবে, মানে ২০২০ সালের এ ভয়ানক বছরের বেদনার্ত বড়দিন। বছরের ক্লান্তি ও বোঝা শেষে অবশ্য সামনে একটু আলো দেখা যাচ্ছে।
জোহানা লেগ্যাট: মেলবোর্নভিত্তিক সাংবাদিক





