মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে নভেল করোনাভাইরাস মানুষের জীবন ধারণের পদ্ধতি বদলে দিয়েছে। পাশাপাশি অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে এই মহামারী। বিভিন্ন দেশে অনেক মানুষ এরই মধ্যে বেকার হয়ে পড়েছে। ফলে ভবিষ্যতে মহামন্দার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। লকডাউনের কারণে সবাইকে এখন বাধ্যতামূলকভাবে ঘরে অবস্থান করতে হচ্ছে। অফিসের কর্মীরা বাসায় থেকে অফিসের কাজ করছেন। অনেককে হয়তো দীর্ঘদিন ধরেই এ পরিস্থিতির মাঝে থাকতে হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনগুলোতে কাজ করার ধরনে বেশ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। কেমন হবে সেই পরিবর্তনগুলো?
অফিসে কাজ করা হবে মর্যাদার প্রতীক
নভেল করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ এখন বাসায় বসে কাজ করছে। পরবর্তী সময়ে মানুষের কাজের সময় ভাগ হয়ে যাবে বাসা ও করপোরেট অফিসে। অনেকেই দূর থেকে কাজ করবে। কোম্পানিগুলো আঞ্চলিক অফিস তৈরি করে কর্মীদের কাজ করাবে। প্রধান কার্যালয়ে কাজ করার পরিবর্তে কো-ওয়ার্কিং স্পেসগুলোতে লোকজন কাজ করবে। যার ফলে করপোরেট হেডকোয়ার্টারগুলো কেবল কোম্পানির মর্যাদার প্রতীক হিসেবেই থেকে যাবে। তাও সেটি হবে কেবল বড় বড় কোম্পানির জন্য, যাদের বড় বাজেট ও কর্মীবাহিনী আছে।
মিটিংগুলো হবে ই-মেইল এবং আইএমে
আশা করা হচ্ছে, মহামারী-পরবর্তী সময়ে অফিসগুলোতে মিটিংয়ের সংখ্যা অনেক কমে যাবে। সে সময়ে মিটিংগুলো পরিবর্তিত হবে ই-মেইল এবং ই-মেইল হবে ইনস্ট্যান্ট মেসেজে। অনেক ক্ষেত্রে ভিডিও কলেও করা হবে এ মিটিংগুলো। অফিসের কনফারেন্স রুমে বসে মিটিং করার চিয়ারত যে দৃশ্য তার হয়তো খুব বেশি দেখা মিলবে না।
ব্যবসায়িক ভ্রমণ হয়তো আর দেখা যাবে
না
কভিড-১৯-এর প্রকোপে এখন সব ধরনের ভ্রমণ স্থগিত হয়ে আছে। সামনের দিনগুলোতে অফিসগুলোকেও হয়তো স্ব-উদ্যোগে স্থগিত রাখতে হতে পারে ব্যবসায়িক ভ্রমণগুলো। বিশেষ করে খরচ কমানো এবং বাজেটে ভারসাম্য রক্ষার্থে হয়তো বড় বড় অফিসে ব্যবসায়িক ভ্রমণের যে ধারা তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
অফিস বিল্ডিংগুলো পরিণত হতে পারে বিস্তৃত কনফারেন্স সেন্টারে
যদি অফিস বিল্ডিংগুলো শেষ পর্যন্ত মর্যাদার প্রতীকে পরিণত হয় তবে তার উদ্দেশ্যও পরিবর্তিত হয়ে যাবে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন সে ক্ষেত্রে অফিসগুলো পরিণত হতে পারে বৃহদাকার কনফারেন্স সেন্টারে। যেখানে অফিসের কাজ না চললেও কর্মীদের জড়ো হওয়ার সুবিধা থাকবে। যেখানে অফিসগুলোর গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, কনফারেন্স এবং অন্যান্য বড় প্রোগ্রাম আয়োজিত হবে।
মেডিকেল স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক হতে পারে
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন দীর্ঘদিন পর লোকজন যখন চাকরিতে যোগ দেবে তখন তাপমাত্রা পরিমাপ ও অ্যান্টিবডি টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। অবশ্য অনেক অফিসে এরই মধ্যে এসব ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। ছোট-বড় অনেক অফিসেই কর্মীদের প্রবেশের সময় তাদের তাপমাত্রা পরিমাপ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে কর্মীদের কাছ থেকে ‘ইমিউনিটি সার্টিফিকেট’
নেয়া হতে পারে।
সহকর্মীরা আরো আন্তরিক হতে পারেন
মহামারী-পরবর্তী দুনিয়ায় অফিসগুলোতে সহকর্মীরা আরো অনেক কাছাকাছি আসতে পারেন। যেখানে কলিগদের মাঝে ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো অনেক বেশি গভীর হতে পারে।
ফেস মাস্ক হয়ে উঠতে পারে সাজসজ্জার অংশ
অফিসগুলোতে সাধারণত পোশাকের ক্ষেত্রে কিছু অলিখিত নিয়ম থাকে। কোথাও কোথাও ড্রেস কোডও থাকে। আগামী দিনগুলোতে ফেস মাস্ক হতে পারে যার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে বড় অফিসে। যেখানে অনেক কর্মী একসঙ্গে কাজ করে, সেখানে ফেস মাস্ক পরা বাধ্যতামূলকও হতে পারে।
৯-৫টা অফিস টাইমের বিলুপ্তি ঘটতে পারে
বর্তমান সময়ে এসে কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবন একাকার হয়ে গেছে। একটার কাছ থেকে অন্যটাকে আলাদা করার সুযোগ নেই। অনেক ক্ষেত্রে অফিসগুলো নিয়মনীতির ক্ষেত্রে কর্মীদের ছাড় দিচ্ছে। সব মিলিয়ে বিশ্বাস ও সম্মানের জায়গায়ও নতুন পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই এখন সফলভাবে বাসা থেকে কাজ করছে। যা কিনা পরবর্তী সময়ে কর্মঘণ্টা নির্ধারণে অফিসগুলোকে নমনীয় করবে।
ঘরে কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি ভাতা দেয়া হতে পারে
টুইটার এবং ই-কমার্স কোম্পানি শোপিফাই মার্চে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার অনুমতি দিয়েছিল, তখন বাধ্যতামূলকভাবে বাড়তি কিছু উপকরণও দিতে হয়েছিল তাদের। যাতে করে কর্মীদের কাজের পরিবেশকে আরো বেশি সহজ ও সুন্দর করা যায়। এমনকি শোপিফাই কর্মীদের ১০০০ ডলার করে ভাতাও প্রদান করেছিল। একইভাবে অফিস উপকরণ প্রদান করেছিল টুইটারও। ভবিষ্যতেও এটা দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে সুযোগ বাড়বে
ঘরের সঙ্গে অফিস সামলানোর কাজ নারীরা অনেক দিন ধরেই করে আসছে। এখন বাধ্যতামূলকভাবে অনেককে সেটি করতে হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে ঘর ও অফিস সামলানোর কাজে নারীরা আরো অনেক বেশি সুযোগ পাবেন। অনেক ক্ষেত্রে সন্তান জন্ম দেয়ার পর নারীরা কর্মক্ষেত্র ত্যাগ করেন। ভবিষ্যতে ঘরে বসে কাজের সুযোগ বাড়লে এ হার অনেকটাই কমে আসবে।
অটোমেশনের ব্যবহার বাড়তে পারে
মানুষের পরিবর্তে শ্রমিক হিসেবে রোবটকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে ভাববে অফিসগুলো। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার রীতিও এক্ষেত্রে প্রভাবিত করবে অফিসগুলোকে।
মেইক ইট





