কয়েক মাস ধরে অস্ট্রেলিয়া নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধের বিষয়ে আশাবাদী ছিল। তবে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বের ভিক্টোরিয়া রাজ্যের উপকূলীয় রাজধানী মেলবোর্নে ভাইরাসটি প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাগুলোকে জটিল অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহ থেকে ভাইরাসটি পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করায় এ সপ্তাহে শহরটির তিন লাখ মানুষকে আবারো লকডাউন করা হয়েছে। ভিক্টোরিয়া রাজ্যে এখন সক্রিয় সংক্রমণের সংখ্যা ৪৮২।

মহামারীর শুরুতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে বিশ্বজুড়ে অস্ট্রেলিয়া বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। আগে কেবল বিদেশ থেকে আসা মানুষের শরীরে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও বর্তমানে শহরটিতে লোকাল ট্রান্সমিশন হওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন কর্মকর্তারা।

দেশটিতে লকডাউন এবং ভ্রমণকারীদের জন্য হোটেল কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক থাকায় অস্ট্রেলিয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বর্তমানে অন্যান্য রাজ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণ নাটকীয়ভাবে কমে গেলেও ভিক্টোরিয়ার ক্ষেত্রে কী ভুল হয়েছে?

এক্ষেত্রে প্রথমেই সামনে আসে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক হোটেল কোয়ারেন্টিন বাস্তবায়নে ব্যর্থতা। এজন্য কোয়ারেন্টিন বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো কর্মীদের অবৈধ সামাজিক যোগাযোগ, সিগারেট লাইটার ভাগাভাগি করা এবং গার্ডদের সঙ্গে ভ্রমণকারীদের যৌন সম্পর্কের মতো ঘটনা ঘটার দাবি করেছে। এ ঘটনায় সরকার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং চুক্তিবদ্ধ সংস্থাগুলোকে বহিষ্কার করেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, লকডাউন শিথিলের সঙ্গে সঙ্গে মানুষজন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, রেস্তোরাঁয় খাওয়ার মতো স্বাধীনতা উপভোগ করেছে। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন ম্যাথিউস বলেন, ভাইরাসটির সংক্রমণ যথেষ্ট সংখ্যায় থাকার পরও লকডাউন শিথিলের পদক্ষেপ এটার জন্য দায়ী হতে পারে।

বিবিসি