এয়ান ক্যান্টর এপ্রিলের শুরুর দিকে একদিন চা পান করছিলেন। হঠাৎ খেয়াল করলেন তিনি চায়ের কোনো সুবাস পাচ্ছেন না। তার ঘ্রাণশক্তি যেন ভোজবাজির মতো হাওয়া হয়ে গেছে। ক্যান্টর কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং এ ভাইরাল রোগ তার ঘ্রাণশক্তিকে কিছুদিনের জন্য গায়েব করে দিয়েছিল। এ অভিজ্ঞতা সারা বিশ্বের কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীরা কম-বেশি অর্জন করেছেন। দেখা গেছে ৮০ শতাংশ কভিড আক্রান্তই ঘ্রাণশক্তির সমস্যা পার করেছেন। অনেক গবেষক এ দাবিও তুলেছিলেন যে কভিড শনাক্তের জন্য জ্বরের চেয়ে ঘ্রাণশক্তি হারানো বরং নির্ভরযোগ্য লক্ষণ।

নভেল করোনাভাইরাস কীভাবে মানুষের ঘ্রাণশক্তিকে ছিনতাই করে সেটা এক রহস্য। আর তা সমাধানে শুরু থেকেই গবেষক ও চিকিৎসকরা নানাভাবে কাজ করছেন। শুরুতে তারা ধারণা করেছিলেন ভাইরাসটি নাকের মধ্য দিয়ে মস্তিষ্কে চলে যায় এবং সেখান থেকেই ঘ্রাণশক্তিকে আক্রমণ করে। কিন্তু হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের নিউরোসায়েন্টিস্ট সন্দীপ রবার্ট দত্ত বলেছেন, ব্যাপারটা তা নয়। বরং ভাইরাস নাকের এপিথেলিয়ামে আক্রমণ করে এ সমস্যাটি তৈরি করে। কোষের এ ত্বকসদৃশ অংশ যে কোনো ঘ্রাণকে শনাক্ত করে। রবার্ট দত্ত বলেছেন, ‘মনে হয় ভাইরাস সাপোর্ট ও স্টেম কোষে আক্রমণ করে, নিউরনে সরাসরি করে না।’ তবে তিনি এটাও বলেছেন যে এর মানে এই না যে ভাইরাসটি নিউরনের ক্ষতি করতে পারে না। অলফ্যাক্টরি নিউরনে অ্যানজিওটেনসিন নেই, যা এনজাইম টু রিসেপ্টরে পরিণত হতে পারে। কিন্তু সাসটেনট্যাকুলার কোষ, যা অলফ্যাক্টরি নিউরনকে শক্তি দেয়, রিসেপ্টর দিয়ে জড়ানো থাকে। এ রিসেপ্টর করোনভাইরাসকে কোষের ভেতরে আক্রমণে সক্ষম করে। এসব কোষ লবণ আয়ন ও মিউকাসের ভারসাম্য রক্ষা করে, আর এর মাধ্যমেই নিউরন মস্তিষ্কে সিগন্যাল পাঠায়। এ ভারসাম্য নষ্ট হলে নিউরনের সিগন্যাল ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার অর্থ মানুষের ঘ্রাণশক্তি হারিয়ে যাওয়া।

অলফ্যাক্টরি এপিথেলিয়াম ঘ্রাণশক্তি হারানোর বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারে। কিন্তু এখনো একটি প্রশ্নের সমাধান হয়নি। তা হলো ক্ষতিটা ভাইরাস সরাসরি করে নাকি ইমিউন কোষের মাধ্যমে হয়।

গবেষকরা ঘ্রাণশক্তি হারানোর পেছনে কিছু সূত্র খুঁজে পেলেও এখনো স্বাদ হারানোর সমস্যাটির উত্তর জানেন না। স্বাদের রিসেপ্টর কোষগুলো লালা থেকে বিভিন্ন উপাদান শনাক্ত করে মস্তিষ্কে বার্তা দেয় এবং এদের কোনো এনজাইম টু রিসেপ্টর নেই। তাই আর করোনাভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হয় না বলেই মনে করা হচ্ছে। কিন্তু জিহ্বার আরো কিছু কোষ রিসেপ্টর বহন করে এবং সম্ভবত এদের মাধ্যমেই কভিড আক্রান্তদের স্বাদের শক্তি হারায়।

ঘ্রাণ ও স্বাদের অনুভবশক্তি হারালে মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে। কারণ তখন মানুষ খাবারের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে না। তবে গবেষকরা মনে করেন, ঘ্রাণ বা স্বাদের ক্ষমতা হ্রাস সরাসরি কভিডের অসুস্থতা তীব্র করার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখে না।

সায়েন্টিফিক আমেরিকান