শরীরজুড়ে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রান্ত করতে পারে নভেল করোনাভাইরাস। এর মধ্যে রয়েছে শ্বাসযন্ত্র, হূিপণ্ড, যকৃৎ, মস্তিষ্ক, কিডনি ও নাড়িভুঁড়ি। গবেষকরা সম্প্রতি এমন তথ্যই দিয়েছেন। দুটি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ভাইরাসটি শ্বাসযন্ত্রকে ভেদ করে শরীরের নানা অঙ্গে আক্রমণ করতে পারছে বলেই নভেল করোনাভাইরাসের উপসর্গও হচ্ছে নানা রকম।
নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে বিভিন্ন ধাঁধার জট খুলে দিতে পারে নতুন এ গবেষণার ফল। কেননা রোগীদের উপসর্গ নিয়ে রহস্যের যেন কোনো শেষ নেই। একেকজন একেক রকম উপসর্গ নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। কারো কারো মধ্যে আবার উপসর্গই ছিল না। তারা হয়তো চিকিৎসা নেননি, ভালোও হয়ে উঠেছেন, কিন্তু নীরবে অন্যদের মাঝে ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিয়েছেন। কেউ আবার বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বলে দেয়া চার-পাঁচটি উপসর্গের কোনোটিই তার মধ্যে নেই। এ কারণে তিনি নিজে কিংবা চিকিৎসকরা তাকে হয়তো কভিড-১৯ রোগী হিসেবে বিবেচনা না করে টেস্টও করাননি। এতেই ভয়ংকর বিপত্তি তৈরি হয়েছে। হয়তো এসব কারণেই আজ বিশ্বে এই মহামারীতে মৃত্যুর মিছিল।
চিকিৎসকরা এখন বুঝতে পারবেন কেন অপেক্ষাকৃত তরুণরা কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার পর তাদের শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে যায় ও স্ট্রোকের শিকার হন; তারা বুঝতে পারবেন কেন মাথা ব্যথা হয় এবং কিডনি ব্যর্থ হয়ে যায় কিংবা জমাট বাঁধা রক্ত কীভাবে ডায়ালাইসিস মেশিনের ফিল্টারকে অকেজো করে দেয়।
কভিড-১৯ কে সাধারণত শ্বাসযন্ত্রের রোগ হিসেবে ধরা হয় এবং ড্রপলেটের মাধ্যমে এটি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে যায়। কিন্তু এটি ডায়রিয়াসহ গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল উপসর্গও তৈরি করতে পারে। নভেল করোনাভাইরাসের জীবাণুকে গবেষকরা মানুষের পায়খানার মধ্যেও খুঁজে পেয়েছেন। কাজেই কভিড-১৯ রোগটি পায়ুপথের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে!
সিএনএন





