যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে কভিড-১৯ সংক্রমণের চিত্র দেখতে মার্চ থেকে হাসপাতালগুলোকে পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছিল। সে সময় ২৮ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রবার্ট উড জনসন বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের চার হাজার কর্মী ও চিকিৎসক-নার্সকে পরীক্ষা করা হয়েছিল। ওই পরীক্ষায় হাসপাতালটির ১৩ জন কর্মী কভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছিল এবং সম্প্রতি সংক্রমিত হওয়ার লক্ষণ হিসেবে ৩৭৪ জনের শরীরে ভাইরাসটির অ্যান্টিবডি পাওয়া গিয়েছিল।

ওপেন ফোরাম ইনফেকশাস ডিজিজ জার্নালের অক্টোবরের সংখ্যায় এ অধ্যয়ন প্রকাশিত হয়েছে। কভিড-১৯ রোগীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাাযোগ হওয়া স্বাস্থসেবাকর্মীদের ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। কিন্তু কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, চিকিৎসক ও নার্সদের চেয়ে হাসপাতালের সহায়ক কর্মীরা বেশি সংক্রমিত হয়েছিল।

রবার্ট উড জনসন বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভাইরাসটিতে সংক্রমিতদের মধ্যে প্রায় ২৪ শতাংশ ছিল রোগীদের থেকে রক্ত সংগ্রহকারী ফ্লিবোটোমিস্ট, প্রায় ১৭ শতাংশ ছিল রক্ষণাবেক্ষণ ও গৃহকর্মী, ১৭ শতাংশ খাদ্য পরিষেবা কর্মী ও ১৪ শতাংশ ছিল সহায়ক কর্মী। অন্যদিকে ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হওয়াদের মধ্যে চিকিৎসক ছিল মাত্র ৭ শতাংশ এবং নার্স ছিল ৯ শতাংশ। তবে অধ্যয়নটির লেখকরা বলেছেন, বেশি সংক্রমণের শিকার হওয়া কর্মীরা হাসপাতালে নাকি তারা যেখানে বসবাস করে সেই সম্প্রদায় থেকে ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়েছিলেন, তা জানার সুযোগ ছিল না। গবেষকরা এ সম্ভাবনাও বিবেচনা করেন যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি রোগীদের সংস্পর্শে যান না এমন কর্মীদের তুলনায় ফ্রন্টলাইন চিকিৎসক-নার্সদের দিকে বেশি নজর দিয়েছিলেন। গবেষণাটির সহলেখক ড্যানিয়েল হর্টন বলেন, মহামারীর প্রথম দিকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামগুলো হাসপাতালের সহায়ক কর্মীদের কম দেয়া হতে পারে। গবেষণাটিতে শ্বেতাঙ্গ কর্মীদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিন আমেরিকান কর্মীদের দ্বিগুণ সংক্রমিত পাওয়া গেছে।

এ অধ্যয়নের মতো সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি অধ্যয়নে উঠে এসেছে, সাধারণ মানুষদের তুলনায় স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বেশি। আবার যেসব স্বাস্থ্যসেবাকর্মী কভিড-১৯ রোগীদের সংস্পর্শে কাজ করেছেন, তাদের ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

গবেষণাটির শীর্ষস্থানীয় লেখক ও রাটজারস স্কুল অব পাবলিক হেলথের সহযোগী অধ্যাপক এমিলি ব্যারেট বলেন, অল্প বা কোনা রোগীর সংস্পর্শে যেতে হয় না এমন স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের করোনাভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে খুব মনোযোগ দেয়া হয় না। কিন্তু আমাদের ফলাফল দেখিয়েছে, এমন স্বাস্থ্যসেবাকর্মীরা সম্ভাব্য সংক্রমণের উচ্চহারের সঙ্গে জড়িত। তাই ভাইরাসটি থেকে তাদের রক্ষায় কঠোর সুরক্ষা প্রটোকল অনুসরণের প্রয়োজন। হর্টন বলেন, হাসপাতালগুলোতে আবারো করোনাভাইরাসের রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। সুতরাং সব কর্মীকে হাসপাতাল ও বাইরের উভয় সংক্রমণের হাত থেকেই রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

মেডিকেল নিউজ টুডে