করোনাভাইরাসের পর কয়েকটি দেশ ধীরে ধীরে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের উত্পত্তিস্থল চীনে উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। তবে সম্ভবত কভিড-১৯-পরবর্তী জীবনযাপনের অনেক কিছু কখনই আর আগের মতো স্বাভাবিক হবে না। যেটা হবে সেটা হলো নতুন স্বাভাবিকতা, বিশেষ করে ভ্রমণের ক্ষেত্রে। করোনাভাইরাস-পরবর্তী ভ্রমণে মেনে চলতে হবে কঠোর সব বিধিনিষেধ।

আকাশে সামাজিক দূরত্ব: কভিড-১৯-পরবর্তী সময়েও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বন্ধ হবে না বলে জানান এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ হেনরি হার্টেওয়েল্ট। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা করোনাভাইরাস-পরবর্তী সময়েও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়ে উৎসাহিত করবেন। এতে এয়ারলাইনসগুলো তাদের উড়োজাহাজের মধ্যবর্তী আসনগুলো বন্ধ করে দেবে এবং প্রিমিয়াম কেবিনে লোকের সংখ্যা সীমিত করতে পারে। এছাড়া আপনি আশা করতে পারেন চেক ইন, নিরাপত্তাসহ সবকিছুতেই আরো বেশি জায়গার ব্যবস্থা করা হবে।

উড়োজাহাজে ওঠার আগে সুস্থতার প্রমাণ: এরই মধ্যে এমিরেটস এয়ারলাইনস যাত্রীদের উড়োজাহাজে ওঠার অনুমতি দেয়ার আগে কভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য র্যাপিড টেস্ট শুরু করেছে। এটার মাধ্যমে ১০ মিনিটের মধ্যেই ফল জানা সম্ভব। সুতরাং সহজেই অনুমেয় যে আগামী দিনগুলোতে উড়োজাহাজে ওঠার আগেই রক্ত পরীক্ষা, হার্ট রেট মনিটরিং বা তাপমাত্রা পরিমাপের মতো বিষয়গুলোর মুখোমুখি হতে হবে।

কমে যাবে ম্যাগাজিন ও পত্রিকা: ভ্রমণ গল্প লেখা ও ফটোগ্রাফি অনুরাগীদের জন্য উড়োজাহাজে বিতরণ করা ম্যাগাজিন ও পত্রিকাগুলো ছিল অনুপ্রেরণামূলক। দুঃখের বিষয়, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সম্ভাব্য বিস্তার হ্রাস করতে ম্যাগাজিন ও পত্রিকাগুলো অনলাইনে চলে যেতে পারে। সুতরাং ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য মুদ্রণজাতীয় পাঠের সামগ্রীগুলো আর সহজলভ্য থাকছে না। উড়োজাহাজে এগুলো পাওয়া না গেলেও খাবার ও পানীয় পাওয়া যাবে।

অতিরিক্ত ব্যাগ বহনে নিষেধাজ্ঞা: আরেকটি পরিবর্তন দেখা যাবে আমিরাতের বিমান সংস্থাগুলোর মতো সব বিমান সংস্থাই হয়তো যাত্রীদের অতিরিক্ত ব্যাগ বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করবে। বড় স্যুটকেসগুলো উড়োজাহাজে নেয়ার অনুমতি দেয়া নাও হতে পারে।

মাস্ক বাধ্যতামূলক: ভ্রমণে খাবার, স্ন্যাকস বা পানীয় সরবরাহের মতো পরিষেবাগুলো অবশ্যই চালু রাখতে হবে। তাই বিমানবালাদের সঙ্গে যাত্রীদের মিথস্ক্রিয়া হ্রাস করতে যাত্রীদের মাস্ক ও গ্লাভস পরা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। এটা হতে পারে চিরদিনের জন্য বা কয়েক মাসের জন্য, বিশেষ করে ভাইরাসটির দ্বিতীয় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এটা চালু রাখা হবে।

অতিরিক্ত অর্থ: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমান সংস্থাগুলোর রাজস্ব স্মরণকালের সর্বনিম্নে নেমে গেছে। সুতরাং টিকে থাকতে তারা হয়তো অতিরিক্ত ফি বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হবে। বিশেষ করে যাত্রীদের প্রিমিয়াম সিট বা আনুষঙ্গিক খরচে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে। তবে যাত্রী ফেরাতে প্রথমদিকে হয়তো তারা অনেক ছাড় দেয়ার চেষ্টা করবে। যদিও এটা খুব বেশিদিন টেকসই হবে না।

এগুলোর পাশাপাশি উড়োজাহাজে চলাচলে যাত্রীদের মনে নতুন এক ভয় কাজ করবে। কভিড-১৯-এর রেশ না কাটা পর্যন্ত অনেকেই হয়তো চাইবেন ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে।

রিডার্স ডাইজেস্ট