কভিড-১৯ মহামারীর কারণে লাখ লাখ কর্মী ঘরে বসে প্রতিদিনের কাজ করছেন। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মী বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মতো অনেকের পক্ষে ঘরে বসে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার অনেক দেশই লকডাউন শিথিল করে কর্মীদের কাজে ফেরার জন্য উৎসাহিত করছে। এ পরিস্থিতিতে আপনি কতটা নিরাপদ থেকে পেশাগত কাজ করা সম্ভব?

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান অফিস এ সপ্তাহে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করা বিপুল মানষের তুলনায় মৃত্যুহার বেশি নয়। যদিও তাদের থেকে সমাজকর্মীদের মৃত্যুর হার বেশি। অথচ স্বাস্থ্যকর্মীরাই কভিড-১৯ রোগীর খুব কাছাকাছি থেকে তাদের সেবা করছেন। তাহলে সমাজকর্মীদের তুলনায় তাদের মৃত্যুহার কম কেন?

ভাইরাসটিতে মৃত্যুহারে অন্যতম শীর্ষে থাকা আরেকটি পেশার মধ্যে রয়েছে গাড়িচালকরা। অনেক মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণেই মূলত গাড়ির চালকদের মৃত্যু বেশি হচ্ছে। এছাড়া সেলুনের কর্মী ও জিমের সহযোগীদেরও মৃত্যু বেশি হচ্ছে।

এর কারণ হিসেবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেন হাম্বারস্টোন বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা মাস্ক, গ্লাভস ও পিপিইর মতো সুরক্ষা সরঞ্জাম বেশি ব্যবহার করেন। তারা হাত ধোয়ার মতো নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধিও অনুসরণ করছেন। এর অর্থ হলো আপনি কভিড-১৯-এর রোগীদের আশপাশে থাকলেই আক্রান্ত হবেন, বিষয়টি তেমন না। প্রয়োজন হলো সতর্কতা অবলম্বনের। যদিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অফিসে অনেকজন একসঙ্গে কাজ করতে হয়। অফিসের পরিবেশে সহকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা এবং মাস্ক, গ্লাভস ও পিপিই ব্যবহার করে সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কিছু পেশার ক্ষেত্রে এগুলো মেনে চলা সহজতর হবে, আবার কিছু ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা আমরা কত দ্রুত এমন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে কাজ করতে পারি।

বিবিসি