করোনাভাইরাস মহামারী আঘাত হানার শুরুর দিকে মানুষের মধ্যে উদ্বেগের মাত্রা ও আত্মহত্যার ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছিল। মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যম রেডিটের ৮ লাখ পোস্ট বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রেডিট ব্যবহারকারীদের পোস্ট ও আলোচনার বিষয়বস্তুতে ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ১৫টি সাবরেডিট বা গ্রুপ থেকে সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার ডিজঅর্ডার ও ব্যক্তিগত অর্থসংস্থান ও সন্তান লালন-পালন নিয়ে মানসিক অসুস্থতার বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেন। গবেষকরা মেশিন লার্নিং টুল ব্যবহার করে মহামারীর বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে রেডিট ব্যবহারকারীদের ভাষার সুর ও বিষয়বস্তুর পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করেন।
সম্প্রতি জার্নাল অব মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চে সমীক্ষাটি প্রকাশিত হয়েছে। সমীক্ষার লক্ষ্য ছিল রেডিট ওয়েবসাইটে পাওয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১৫টি মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সহায়তা দানকারী গ্রুপে ব্যবহূত ভাষার পরিবর্তনগুলো চিহ্নিত করা। পাশাপাশি মহামারীটির প্রাথমিক পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক গ্রুপের বাইরে ভাষার পরিবর্তনও তারা লক্ষ করেন।
গবেষণাটির ফলাফলে দেখা গেছে, অর্থনৈতিক চাপ, বিচ্ছিন্নতা ও বাড়ির মতো শব্দের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া মহামারীর সময় মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক গ্রুপগুলোতে মনোযোগে ঘাটতির সমস্যা, অতিসক্রিয়তা, খাওয়ার সমস্যা ও উদ্বেগের মতো বিষয়গুলোতে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। গবেষকরা আরো জানতে পেরেছেন, রেডিটজুড়ে স্বাস্থ্য উদ্বেগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। করোনাভাইরাস সম্পর্কে ব্যবহারকারীরা যত বেশি পোস্ট করেছেন, মানসিক স্বাস্থ্যসহায়তা গ্রুপগুলো ভাষাগতভাবে আরো অনুরূপ হয়ে উঠেছিল।
সমীক্ষাটির শীর্ষস্থানীয় লেখক ড্যানিয়েল লো বলেন, আমরা দেখতে পেয়েছিলাম, কভিড-১৯-এর সংক্রমণগুলোর সঙ্গে আত্মহত্যা ও একাকিত্বের মতো বিষয়গুলোও যুক্ত ছিল। মহামারী চলাকালে এ ধরনের পোস্টের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। এটা মারাত্মক উদ্বেগের বিষয়।
সমীক্ষাটিতে আরো প্রমাণিত হয়েছে, মানসিক স্বাস্থ্যের অভিযোগগুলোর পাঠোদ্ধার ও মহাকারীকালীন দুর্বল দলগুলোকে শনাক্ত করার জন্য পাঠ্য বিশ্লেষণ সংবেদনশীল ছিল। গবেষকরা জানিয়েছেন, এ পদ্ধতি নির্বাচন ও প্রতিবাদগুলোর মতো বিশ্ব পরিবর্তন করে দেয়া বিষয়গুলো অধ্যয়ন করতে কাজে লাগানো যেতে পারে।
লো বলেন, কভিড মহামারী যখন প্রথম আঘাত হানে, তখন আমরা কৌতূহলী ছিলাম যে এটা অন্যদের চেয়ে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ওপর বেশি প্রভাব ফেলছে কিনা। রেডিট আমাদের বিশেষায়িত সহায়তা গ্রুপগুলোতে এসব বিষয় দেখার সুযোগ করে দেয়। প্রকৃতপক্ষে এটা সংক্রমণের ঝড় আঘাত হানার সময়ে বিভিন্ন সম্প্রদায় কীভাবে আলাদাভাবে প্রভাবিত হয়েছিল, তা দেখার সত্যিই একটা অনন্য সুযোগ।
দ্য প্রিন্ট





