করোনাভাইরাস মহামারীর শুরু থেকেই শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বেশির ভাগ দেশেই স্কুল, কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সংক্রমণের মধ্যেই অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালু করেছে অনেক দেশ। তবে এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকার পর থেকেই অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। নতুন শিক্ষাবছর নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বাচ্চাদের অভিভাবকরা।
এ পরিস্থিতিতে মনে হতে পারে যে এটা বিদ্যালয়সংক্রান্ত পণ্যের চাহিদা কমিয়ে দেবে এবং এটা খুচরা বিক্রেতাদের জন্য খারাপ সংবাদ তৈরি করবে। তবে মহামারীটি প্রকৃতপক্ষে বিক্রি বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ দূরবর্তী পড়াশোনা সস্তা নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা শিল্পের বৃহত্তম ট্রেড গ্রুপ ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশন অনুমান করেছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বাবা-মা প্রতি শিশুর জন্য গড়ে গত বছরের ৬৯৭ ডলারের তুলনায় এ বছর ৭৯০ ডলার ব্যয় করবেন। এছাড়া কলেজগামী শিশুদের পরিবারগুলো গত বছরের ৯৭৭ ডলারের তুলনায় গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬০ ডলার ব্যয় করবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ফলে, স্কুল-কলেজের মোট ব্যয় গত বছরের ৮০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এ বছর ১০১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। এটা প্রথমবারের মতো ১০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ফেডারেশনের সমীক্ষায় পরিবারগুলো জানিয়েছে, স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিশুদের অনলাইনে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে, এজন্য তারা আরো বেশি দামের আইটেমগুলো যেমন ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও কম্পিউটারসহ আনুষঙ্গিক পণ্যগুলো কিনছেন।
জুলাই-আগস্ট মাসকে স্কুল সরবরাহ কেনাকাটার মৌসুম ধরা হয়। দূরবর্তী শেখার জন্য উচ্চমূল্যের টেক গেজেটগুলো কিনে পরিবারগুলোর কাছ থেকে স্কুল কেনাকাটায় ফেরার আশা করা হচ্ছে। প্রযুক্তি পণ্যগুলো কেনাকাটার তালিকায় শীর্ষে থাকবে। তবে অভিভাবকরা বলেছেন, তারা নতুন পোশাক কিনবেন তবে গত বছরের মতো নয়। সব মিলিয়ে স্কুল সরবরাহে ব্যয় কিছুটা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত মাসে ডেলোয়েটের ব্যাক টু স্কুল প্রতিবেদনেও ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল যে প্রযুক্তি ক্রয় এবং স্বাস্থ্যকর পণ্যগুলো মূলত স্কুল কেনাকাটার ঝুড়ি পূরণ করবে। সম্প্রতি প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ১ হাজার ২৫টি পরিবারের ওপর সমীক্ষাটি করা হয়েছে। এ বছর বাচ্চাদের পোশাক, কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিকসের জন্য প্রতিটা পরিবারের গড় ব্যয় হবে ৫২৯ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ২ শতাংশ বেশি। কলেজগামী বাচ্চাদের এসব সামগ্রীতে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য অভিভাবকরা ১ হাজার ৩৪৫ ডলার করে ব্যয় করবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যা গত বছরের সমান।
মার্কিন খুচরা বিক্রেতাদের সংগঠন ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশনের ভাইস চেয়ারম্যান রড সাইডস বলেন, আমি প্রত্যাশা করেছিলাম যে বেকারত্বের হার বেড়েছে এবং এত বেশি মানুষ কাজের বাইরে থাকায় বিদ্যালয়সামগ্রী কেনাকাটায় ব্যয় হ্রাস পাবে। কিন্তু প্রতিবেদনে তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, মানুষদের কিছু পণ্যের চাহিদা বেড়েছে এবং সেটা ছুটির কেনাকাটার সময়কালে খুব উপকার করতে পারে।
বিবিসি





