নভেল করোনাভাইরাস ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য পরিচিত হলেও ভাইরাসটি হ্যালুসিনেশন, খিঁচুনি, কোমা, স্ট্রোক ও প্যারালাইসিসের মতো প্রাণঘাতী মস্তিষ্কের আঘাতগুলোর ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। ভাইরাসটি মস্তিষ্কে আক্রমণ করতে পারে এবং এটা ফুসফুসের ক্ষতি করে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এছাড়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা কখনো কখনো অতিপ্রতিক্রিয়া দেখায়, ফলে মস্তিষ্ক ও অন্য অঙ্গগুলোকে আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে।
এজন্য চিকিৎসকরা কেবল কভিড-১৯ থেকে জীবন বাঁচানোর জন্য নয়, রোগীদের মস্তিষ্ক সুরক্ষিত রাখার জন্যও লড়াই করছেন। কভিড-১৯ স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ালেও মহামারীটি সেটা নির্ণয় করা কঠিন করে তুলেছে। ব্রিটেনের ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনের নিউরোলজি ও নিউরোসার্জারির অধ্যাপক ডা. কেভিন শেঠ বলেন, চিকিৎসকরা যখন রোগীর স্ট্রোক হওয়ার সন্দেহ করেন, তখন তারা সাধারণত মস্তিষ্কের এমআরআই করতে বলেন। তবে কভিড-১৯-এর কারণে অনেক চিকিৎসক এমআরআই কর্মীদের অনুরোধ করতেও দ্বিধাবোধ করেন। কারণ রোগীরা স্ক্যানারটিতে ভাইরাস রেখে আসতে পারে এবং এটা পরবর্তী সময়ে অন্যান্য রোগী ও কর্মীর মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে।
চীনের উহানের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৩৬ শতাংশ রোগীর স্নায়ুজনিত লক্ষণ ছিল, যার মধ্যে মাথাব্যথা, চেতনা পরিবর্তন, স্ট্রোক ও পেশি সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। একটি ছোট ফরাসি গবেষণায় ৮৮ শতাংশ রোগীর মধ্যে এ জাতীয় লক্ষণ দেখা গেছে। পাশাপাশি বেশির ভাগ রোগী হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার পরও এগুলো বহাল ছিল।
সিএনএন





