ইংল্যান্ড ও আরো কিছু দেশের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিক রোগীদের কভিড-১৯ সংক্রমণ ঘটলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়, অবশ্য যদি তাদের শরীরে গ্লুকোজের নিয়ন্ত্রণ বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে।

এই থিওরিকে সমর্থন করার মতো তথ্য-উপাত্ত ক্রমেই বাড়ছে। এ নিয়ে আরো নিবিড় কিছু গবেষণাই নিশ্চিত করবে, সম্ভবত কভিডে ডায়াবেটিক রোগীদের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে কিনা।

তবে এখানেই শেষ নয়, এ মাসের শুরুর দিকে বিশ্বব্যাপী বহু স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনকে (এনইজেএম) লেখা চিঠিতে বলেছেন, কভিড-১৯ শুধুই যে ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তা-ই নয়, প্রকৃতপক্ষে কভিডের কারণেও ডায়াবেটিস হচ্ছে।

ডায়াবেটিস সাধারণত দুই ধরনের: টাইপ-১ ও টাইপ-২। টাইপ-১ ডায়াবেটিস সৃষ্টি হয় শরীরের নিজস্ব ইমিউন সিস্টেম দ্বারা এবং এটি অগ্ন্যাশয়ের বিচ্ছিন্ন ইসলেটকে আক্রমণ করে, যারা আসলে ইনসুলিন তৈরি করে থাকে। এটি তথাকথিত অটোইমিউন রোগ (যখন ইমিউন সিস্টেম ভুল করে শরীরকে আক্রমণ করে বসে তখনই অটোইমিউন রোগের সৃষ্টি হয়)।

পরিশেষে যা ঘটে অগ্ন্যাশয়ের মধ্যে যখন কোনো ইসলেট কোষ না থাকে তখন রক্তের মধ্যে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মতো ইনসুলিনও তৈরি হতে পারে না। আমরা জানি না কী এই অটোইমিউনিটির সূচনা করে, কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে, ভাইরাসের সংক্রমণ এর পেছনে দায়ী থাকতে পারে।

টাইপ-২ ডায়াবেটিস তখনই ঘটে যখন ইসলেট সেলগুলোকে অনেক বেশি পরিমাণে ইনসুলিন তৈরি করতে হয়, কারণ মূল অঙ্গগুলো (ফুসফুস, মাংসপেশি ও চর্বি) সাড়া দেয় না। পাশাপাশি ইনসুলিনের বার্তাটিও দিতে হয় ইসলেটকে। ফলে ইসলেট কোষগুলো নিঃশেষিত হয় ও মারা যায়।

চিকিৎসকরা বহু বছর ধরে জেনে এসেছেন, প্রথমবার যখন কারো মধ্যে ডায়াবেটিসের উপসর্গ দেখা দেয় তখন তার সঙ্গে ভাইরাসের সংক্রমণের সম্পর্ক থাকতে পারে। (সচরাচর মৌসুমের যে সময় ভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয় সেই সময়ই টাইপ-১ ডায়াবেটিস বেশি ধরা পড়ে)। ভাইরাসের সংক্রমণ আবার অগ্ন্যাশয়ের মধ্যে ইনসুলিন তৈরিকারক ইসলেট কোষের ‘কারখানা’কে ধ্বংস করে দেয়।

মাম্পস (ভাইরাসজনিত সংক্রমণ) ও এন্টেরোভাইরাস সংক্রমণের সময় বেড়ে ওঠা তীব্র কিছু ডায়াবেটিসের দৃষ্টান্ত রয়েছে। এছাড়া অটোইমিউন দ্বারা সংঘটিত টাইপ-১ ডায়াবেটিসের সঙ্গে কক্সস্যাকি-বিওয়ান এন্টেরোভাইরাসের সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। পাশাপাশি শীতের মাসগুলোতে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ফলে ইসলেট কোষের অটোইমিউনিটি বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও দেখেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের গবেষকরা।

করোনাভাইরাস ও ডায়াবেটিসের সম্পর্ক

চীনের একটি তরুণ ছেলের ওপর কেস স্টাডি করেছেন গবেষকরা। দেখা যায়, কভিড-১৯ সংক্রমণের পর ওই ছেলেটির শরীরে তীব্রভাবে ডায়াবেটিসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। কভিড-১৯ মহামারীর আগে পূর্ব এশিয়া সার্সের প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হয় (২০০২ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত), ওই রোগটির কারণও ছিল একটি করোনাভাইরাস। সে সময় সার্স নিউমোনিয়া দ্বারা তীব্র ডায়াবেটিসের সূত্রপাত ঘটার তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, যা কিনা অন্য সময় নিউমোনিয়ার দ্বারা ঘটেনি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তিন বছর পর ডায়াবেটিস চলে গেছে, যদিও ১০ শতাংশ রোগীর মধ্যে ডায়াবেটিস থেকেই গেছে।

সায়েন্স অ্যালার্ট