নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবের ফলে আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বজুড়ে আরো ২৫ লাখ মেয়ের বাল্যবিবাহে বাধ্য হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের এক প্রতিবেদনে ২৫ বছরের মধ্যে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উচ্চহার বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে দাতব্য সংস্থাটি বলেছে, মহামারী বিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দিয়েছে এবং দরিদ্র পরিবারগুলোকে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

‘গ্লোবাল গার্লহুড ২০২০: হাউ কভিড-১৯ ইজ পুটিং প্রগ্রেস ইন পেরিল’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এ বছরেই ৫ লাখ মেয়েকে অকালে বিয়ের দিকে ঠেলে দেয়া হবে। এটা ২০২০ সালে মোট বাল্যবিবাহের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখে নিয়ে যাবে।

প্রতিবেদনটিতে সতর্ক করা করেছে, ২০২০ সাল মেয়েদের জন্য অপরিবর্তনীয় বিপর্যয় ও অগ্রগতি হারানোর বছর। বিশ্বজুড়ে স্কুল বন্ধের ফলে ১৬০ কোটি শিশুর পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের অনুমান এক কোটি শিশু, যাদের বেশির ভাগই মেয়ে আর কখনই স্কুলে ফিরবে না।

প্রতিবেদনটিতে আরো পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সী ১০ লাখের বেশি মেয়ে এ বছর গর্ভবতী হতে পারে এবং প্রসবের কারণে তারা প্রাণনাশের ঝুঁকিতে পড়বে, যা এখনো ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের মধ্যে মৃত্যুর প্রধান কারণ।

বাল্যবিবাহ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলটি হলো দক্ষিণ এশিয়া। অঞ্চলটিতে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের জেরে প্রায় দুই লাখ কিশোরীকে এ বছর জোর করে বিয়েতে বাধ্য করা হবে। স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি উভয় ক্ষেত্রেই মহামারীতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দেশ ভারতে এমনি সময়ে বিশ্বজুড়ে মোট বাল্যবিবাহের এক-তৃতীয়াংশ হয়ে থাকে। ৬০ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হওয়া ভারত এখন বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংক্রমণস্থলে পরিণত হয়েছে এবং দেশটিতে সংক্রমণের হার বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে।

মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিসের মাধ্যমে মার্চ মাসে দেয়া লকডাউনে দেশটির লাখ লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ে। শেষ প্রান্তিকে ভারতের অর্থনীতি প্রায় ২৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। লকডাউন প্রত্যাহারের পরও দেশটিতে শিল্প ও কাজের সুযোগগুলো ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো কাজ না পাওয়ায় এবং বিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতে শিশুদের কাজে যেতে বা বালবিবাহে আবদ্ধ হতে বাধ্য করা হচ্ছে।

সেভ দ্য চিলড্রেন যুক্তরাজ্যের প্রধান নির্বাহী কেভিন ওয়াটকিনস বলেন, খাদ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে সহিংসতা ও যৌন শোষণের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি, বিশেষত মানবিক জরুরি পরিস্থিতিতে অনেক পিতামাতাই মনে করেন যে তাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই এবং তারা মেয়েদের প্রায়ই বেশি বয়সী পুরুষদের বিয়ে করতে বাধ্য করেন। এ বিয়েগুলো মেয়েদের অধিকার লঙ্ঘন করে এবং এগুলো হতাশা, আজীবন সহিংসতা, প্রতিবন্ধিত্ব, এমনকি প্রসব থেকে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।

দ্য গার্ডিয়ান