নভেল করোনাভাইরাসে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা বিশ্বে ৯৪ লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত, মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ৮২ হাজারের বেশি মানুষের। এমন পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিনের জন্য হাহাকার চলছে। বিশ্বে অন্তত ১২০টি প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে অনেকদূর এগিয়ে গেল যুক্তরাজ্য। সেখানে মানুষের দেহে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের নতুন আরেকটি ট্রায়াল শুরু হয়েছে। নতুন এই ভ্যাকসিন নিয়ে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হওয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন কিছু স্বেচ্ছাসেবক।
ট্রায়াল শুরু হয়েছে ২৪ জুন বুধবার। এক সপ্তাহের মধ্যে মোট ৩০০ ব্যক্তি এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করবেন। ট্রায়াল কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইম্পেরিয়াল কলেজের প্রফেসর রবিন স্যাটক ও তার সহকর্মীরা। এর আগে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞরা মানবদেহে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করেন।
মানুষের শরীরে ট্রায়ালের আগে পশুর দেহে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে বিশেষজ্ঞরা দেখতে পান, পশুর দেহে এটি নিরাপদ এবং কার্যকর ইমিউনের সাড়াও পাওয়া যায়।
ইম্পেরিয়াল কলেজের নতুন এই ভ্যাকসিন ট্রায়ালে ৩০০ স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে প্রথম পর্বে যারা অংশ নিচ্ছেন তাদের অন্যতম ৩৯ বছর বয়সী ক্যাথি জানান, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শামিল হতে চান বলেই তিনি এ ট্রায়ালে অংশ নিচ্ছেন। তার কথায়, ‘আমরা সবাই জানি, ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক হবে না, তাই আমি এ প্রক্রিয়াটির অংশ হতে চেয়েছি।’
৩০০ মানুষের এই ট্রায়াল শেষ হওয়ার পর অক্টোবরে ৬ হাজার মানুষকে নিয়ে আরেকটি ট্রায়াল পরিকল্পনাধীন রয়েছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ আশাবাদী, যুক্তরাজ্য ও বিদেশে ভ্যাকসিন বিতরণ শুরু করা যাবে ২০২১ সালের শুরুর দিকে।
ইম্পেরিয়াল কলেজের আবিষ্কৃত ভ্যাকসিন প্রথাগত ভ্যাকসিন থেকে আলাদা। এটি শরীরে প্রবেশ করানোর পর ভাইরাসের অনেক কপি তৈরি করবে, যারা মূল ভাইরাসকে চিনবে ও তাদের সঙ্গে লড়াই করবে।
বিবিসি





