দিল্লি যেমন ভারতের রাজধানী, তেমনি এখন দেশটির করোনাভাইরাস মহামারীর রাজধানীও হতে যাচ্ছে শহরটি। আর এই চাপ সামলাতে হিমশিম অবস্থা এখানকার হাসপাতালগুলোর। আক্রান্ত অনেকেই এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারছে না। আর বিনা চিকিৎসাতেই মারা যাচ্ছে অনেক রোগী।

২৫ মার্চ লকডাউন শুরু হওয়ার সময় দিল্লিতে কভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬০৬, আর সম্প্রতি তা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। আর মৃত্যু এখন আড়াই হাজারের কাছাকাছি।

সেন্টার ফর চেস্ট অ্যান্ড লাং ট্রান্সপ্লান্টেশনের চেয়ারপারসন ডা. অরবিন্দ কুমার বলেছেন, দিল্লির করোনা পরিস্থিতি ‘ভীতিকর’। বর্তমানে দিল্লিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা খুব দ্রুতগতিতে বাড়ছে।

দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রীও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। রোগীর সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকায় দিল্লিবাসীকে এখন হাসপাতালে একটা বেড পেতে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। জুনের শুরুতে দিল্লির রাজ্য সরকার একটি অ্যাপ চালু করে যেখানে সরকারি ও প্রাইভেট হাসপাতালে ফাঁকা আসনের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মিলিয়ে দেখেন।

এই অ্যাপ দিনে দুবার আপডেট করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি বলছে সমস্যাটা শুধু হাসপাতালের বেডসংখ্যা নয়, বরং সংকট দেখা দিয়েছে পর্যাপ্তসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীর।

শাহানা চন্দ নামে এক করোনা রোগী সরকারি হাসপাতালে একটি সিট পেলেও তাকে দেখার মতো ডাক্তার বা নার্স সেখানে ছিলেন না। এর আগে তিনি একাধিক হাসপাতালে সিট চেয়েও পাননি। কয়েকদিন পর তিনি মারা যান। স্বজনদের অভিযোগ সঠিক চিকিৎসা তিনি পাননি। কিছুদিন আগে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও দিল্লির রাজ্য সরকারকে করোনা রোগীদের সঠিক সেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সমালোচনা করেছে।

সিএনএন