নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার রোধে পুরো ভারতে লকডাউন চলছে। এ সময় কলকারখানা ও মানুষের আনাগোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জীববৈচিত্র্য যেন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। কয়েক দিন আগে ভারতের প্রাচীন নদী যমুনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, যমুনার কালো পানি উধাও, টলটল করছে স্বচ্ছ নীল পানি। তাহলে গঙ্গার পানিও কি পানের উপযোগী হচ্ছে?

হরিদ্বারের গুরুকুল কাংরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও পরিবেশ বিজ্ঞানী বিডি জোসির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে উত্তরখণ্ডের ঋষিকেশ ও হরিদ্বারে গঙ্গার জল খুব পরিষ্কার হয়ে গেছে। তার মতে, দীর্ঘদিন পর হরিদ্বারে গঙ্গার পানি ভালো হয়ে উঠেছে। দ্রবীভূত সলিড (টিডিএস), শিল্পজাতীয় দূষণ, ধর্মশালা, হোটেল ও লজগুলোর নর্দমার দূষণ মোট ৫০০ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় গঙ্গার জল এমন পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে গঙ্গা সভার সাধারণ সম্পাদক তন্ময় বশিষ্ঠ টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, গঙ্গার পানি কখনো এমন পরিষ্কার দেখা যায়নি।

রাজ্যের পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের (পিসিবি) আঞ্চলিক কর্মকর্তা আরকে কাঠাইত বলেছেন, গঙ্গার পানির গুণমানের মধ্যে একটি দৃশ্যমান পার্থক্য রয়েছে। স্পষ্টতই, এ পরিবর্তনটি মানব ক্রিয়াকলাপের অভাবে শুরু হয়েছে। কারণ লকডাউন থাকায় বেশ কয়েক দিন ধরে কোনো তীর্থযাত্রী পবিত্র দুই শহর হরিদ্বার ও ঋষিকেশে যাননি।

এদিকে উত্তরখণ্ড পিসিবি গঙ্গার পানির গুণমান নিয়ে একটি নজর রাখছে। পিসিবির একজন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এসএস পাল বলেন, হরিদ্বারে গঙ্গার পানি গোসলের জন্য ভালো এবং প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধকরণের পর পানের জন্য উপযুক্ত। এছাড়া ঋষিকেশের গঙ্গার পানি জীবাণুমুক্ত করার পর পানের জন্য উপযুক্ত।

টাইমস অব ইন্ডিয়া