গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার যখন নিম্নগামী, তখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে এক ব্রিফিংয়ে লোকজনকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, নতুন ভাইরাসটির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জনজীবনে উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা খুব কম। আমাদের দেশে ফ্লুর কারণে প্রতি বছর ২৫ থেকে ৬৯ হাজার মানুষ মারা যায়।
ট্রাম্পের বক্তব্যের মূলকথা ছিল কভিড-১৯ ফ্লুর চেয়ে খারাপ কিছু নয়। এপ্রিলের শুরুতে সামাজিক দূরত্বের ব্যবস্থাগুলো দেশের কিছু অঞ্চলে সফল হতে শুরু করলে প্রভাবশালী পূর্বাভাস মডেলটি করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে সংশোধন করে। এর পরই কিছু মানুষ যুক্তি দেয় যে এটা যদি শেষ পর্যন্ত ফ্লু মৌসুমে মৃত্যুর চেয়ে খারাপ না হয়, তবে আমাদের উচিত দেশকে ব্যবসায়ের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া।
প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের মতো এ যুক্তিগুলো ফ্লুর মৃত্যুর গণনার ভুল বোঝাবুঝির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের প্রশিক্ষক জেরেমি স্যামুয়েল ফাউস্ট। তিনি বলেন, একজন পরিদর্শনকারী চিকিৎসক হিসেবে সাড়ে তিন বছরে আমি কখনো কাউকে ফ্লুতে মারা যেতে দেখিনি। আমি কেবল একটি শিশুর ঘটনা মনে করতে পারি। ফ্লুতে মৃত্যুর সংখ্যার তুলনায় আমার তো এমন ঘটনা আরো অনেক দেখার দরকার ছিল।
ট্রাম্পের ঘোষণা দেয়া এ সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) দেয়া একটি অনুমাননির্ভর পরিসংখ্যান। ফ্লুতে হাসপাতালে মারা যাওয়া সংখ্যার সঙ্গে তারা বাড়িতে ও হাসপাতালে মারা যাওয়া অপ্রকাশিত সংখ্যা অনুমান করে হিসাব করে। করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা গণনার মতো গত ছয় মৌসুমে ফ্লুতে সিডিসির নিশ্চিত মারা যাওয়ার সংখ্যা ৩ হাজার ৪৪৮ থেকে ১৫ হাজার ৬২০ জনে দাঁড়িয়েছে। সিডিসির হিসাবের পেছনে কিছু যুক্তি রয়েছে। অবশ্যই ফ্লুতে মারা যাওয়া কিছু সংখ্যা গণনার বাইরে থেকেছে, কারণ ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়া সবাই পরীক্ষা পান না। কিন্তু ফ্লুতে নিশ্চিত মৃতের সংখ্যার চেয়ে সিডিসির ঘোষিত ছয় গুণ বেশি সংখ্যাকে সমর্থন করার জন্য খুব কম তথ্যই রয়েছে। তাছাড়া নিউমোনিয়ার মৃত্যুও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জেরেমি স্যামুয়েল ফাউস্ট বলেন, ফ্লুতে মারা যাওয়া অনুমাননির্ভর সংখ্যার সঙ্গে কভিড-১৯-এর মৃতের সংখ্যা তুলনা করে আমরা যদি এ সিদ্ধান্তে পৌঁছি, কভিড-১৯ ফ্লুর মতো ‘কেবল অন্য একটি ভাইরাস’
তাহলে আমরা ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে কাজ করে এমন পদক্ষেপগুলো থেকে দূরে সরে যেতে পারি। সুতরাং তুলনা করতে হলে আমাদের প্রকৃত সংখ্যার সঙ্গে তুলনা করতে হবে, অনুমাননির্ভর সংখ্যার সঙ্গে নয়। উদাহরণস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রে কভিড-১৯-এ এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে মারা যাওয়া সংখ্যা গত সাতটি ফ্লু মৌসুমে খুব খারাপ একটি সপ্তাহে মারা যাওয়া লোকের সংখ্যার তুলনায় ৯ দশমিক ৫ গুণ বেশি এবং ফ্লুর চেয়ে এটা ৪৪ গুণ বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। তাই করোনাভাইরাস ফ্লুর মতো কিছু নয়, এটা অনেক অনেক বেশি খারাপ।
সায়েন্টিফিক আমেরিকান





