অর্থনীতি খুলে দিয়ে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং অ্যাপ্লিকেশন কাজে লাগিয়ে করোনাভাইরাস মোকাবেলা করতে চাচ্ছে বিভিন্ন দেশের সরকার। এ প্রক্রিয়ায় চলমান লকডাউন শিথিল করে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালু করা হবে। এর মধ্যে কারো করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলে তাকে দ্রুত পরীক্ষা করা হবে এবং তিনি কভিড-১৯ পজিটিভ হলে এই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে তার সংস্পর্শে আসা মানুষদের চিহ্নিত করে দ্রুত আলাদা করে ফেলা হবে। এছাড়া অ্যাপ্লিকেশনগুলো তথ্য ভাগাভাগি করে সংক্রমিত ব্যক্তির কাছাকাছি অবস্থান করলে তাকে সতর্ক করা হবে।
এ অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে অধিক পরীক্ষা, আইসোলেশন ও সামাজিক দূরত্ব একসঙ্গে কাজ করলে তবেই একটি দেশের সামগ্রিক কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ কৌশল সফল হতে পারে। তবে কেবল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে করোনাভাইরাস মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।
কিছু দেশ এরই মধ্যে নাম, ঠিকানা, লিঙ্গ, বয়স, অবস্থান, রোগের লক্ষণ ও কভিড-১৯ পরীক্ষার ফলসহ সব তথ্য রেকর্ডের জন্য ফোন ব্যবহার শুরু করেছে। গত সপ্তাহে চালু হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কভিডসেফ অ্যাপ। ব্যবহারকারীরা আক্রান্তদের সংস্পর্শে গেলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। অস্ট্রেলিয়া তথ্যগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ শুরু করেছে। এদিকে এখনো উন্নয়নের পর্যায়ে থাকা জার্মানির অ্যাপটি ব্যবহারকারীর ফোনেই তথ্য সংরক্ষণ করবে। এ মাসের শুরুতে চালু হওয়া মিসরের অ্যাপ্লিকেশনটি ফোনের লোকেশন পরিষেবা ব্যবহার করে কভিড-১৯ আক্রান্তদের কাছাকাছি গেলে তাদের সতর্ক করছে।
যুক্তরাজ্যে শিগগিরই কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং অ্যাপ চালু করা হবে। অ্যাপটিতে ব্যবহারকারীরা তাদের লক্ষণগুলো বর্ণনা করবে, যদিও পরীক্ষার ফলের সঙ্গে এ তথ্যগুলো লিংক করা হবে কিনা, তা এখনো পরিষ্কার না। তবে ব্যবহারকারীদের তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হবে।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যাপ্লিকেশনগুলো প্রযুক্তি সংস্থা ও গবেষকদের সমন্বয়ে তৈরি করা হচ্ছে। তবে অ্যাপে ব্যবহারকারীদের যে ব্যক্তিগত তথ্য দিতে বলা হচ্ছে, তা নিয়ে খুব কম আলোচনা হচ্ছে। অ্যাপ্লিকেশনগুলো চিহ্নিত রোগীদের থেকে মানুষদের দূরে থাকতে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু পরীক্ষা করা হয়নি বা শনাক্ত করা যায়নি, এমন আক্রান্তদের থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে যাওয়া ঠেকাতে অ্যাপ্লিকেশনটি কতটা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে খুব কম তথ্যই রয়েছে। সরকারগুলো উচ্ছ্বসিতভাবে সুবিধাগুলো তুলে ধরলেও ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে খুব কম বলছে।
যে অ্যাপ্লিকেশনগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে করোনাভাইরাসের ফলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, সেগুলোর সঠিক ফল দেয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু পরীক্ষার ফল যখন ব্যবহারকারীরা নিজেরা সরবরাহ করবে, তখন ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেউ যদি অ্যাপে মিথ্যা তথ্য দেয়, তাহলে একদিকে অজান্তেই ভাইরাসটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে, অন্যদিকে অকারণে লোককে কয়েক সপ্তাহ ধরে আইসোলেশনে থাকতে হতে পারে।
তবে কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য সংরক্ষণেও উদ্বেগ রয়েছে। এ মাসের শুরুতে ৩০০ গবেষকের স্বাক্ষরসংবলিত একটি খোলা চিঠিতে সরকারকে মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে, অনেকগুলো পৃথক স্থানে যেমন পৃথক ফোনে তথ্য সংরক্ষণ বেশি সুরক্ষিত এবং এক জায়গায় সংরক্ষিত তথ্য হ্যাকিংয়ের জন্য বেশি সংবেদনশীল।
সব মিলিয়ে এ সময় অবশ্যই দ্রুত কাজ করতে হচ্ছে। তবুও এমন একটি অ্যাপের উন্নয়নে নীতিশাস্ত্র, আইন ও পাবলিক এনগেজমেন্ট নিয়ে অধ্যয়নকারীসহ আরো বেশি গবেষকের জড়িত হওয়া উচিত। এছাড়া সরকারগুলোকে কঠিন প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে সংগৃহীত তথ্যগুলো সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে এবং যে কারণে তথ্যগুলো নেয়া হচ্ছে কেবল সেজন্যই এগুলো ব্যবহার করা হবে।
নেচার ডটকম অবলম্বনে





