হাসপাতালগুলো করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হিমশিম খাচ্ছে। সতর্কতা অবলম্বন করেও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধ করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে মানুষের অন্যান্য সমস্যার জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হচ্ছে, দরকার পড়ছে জরুরি ভিত্তিতে রক্ত। গর্ভকালীন জটিলতায় ভুগতে থাকা নারী, রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত শিশু বা দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিদের রক্তদান জীবন রক্ষাকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে চলমান এ লকডাউনের সময় রক্তদান কি চালিয়ে যাওয়া উচিত? বা এটা কতটা নিরাপদ?
রক্ত গুরুতর অবস্থায় থাকা মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারে, এজন্য সর্বদাই এটার উচ্চচাহিদা থাকে। অনুদানের রক্ত প্রক্রিয়াকরণ, পরীক্ষা ও বিতরণ করার জন্য নিবেদিত স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত কাজ করেন। বছরের ৩৬৫ দিনই এ পরিষেবাটি প্রয়োজন।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) ব্লাড অ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্ট বলছে, রোগীদের চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর দেশে ১ লাখ ৩৫ হাজার নতুন রক্তদাতা প্রয়োজন। তবে মহামারীর জন্য মার্চের শেষ সপ্তাহে ইংল্যান্ডে প্রত্যাশার চেয়ে রক্তের সংগ্রহ ১৫ শতাংশ কম ছিল। এদিকে গত শুক্রবার ওয়েলশ ব্লাড সার্ভিস জানিয়েছে, সাধারণ সপ্তাহের তুলনায় এপ্রিলে রক্তদানের পরিমাণ ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রক্তদান কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এনএইচএসের ব্লাড অ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্টের কর্মকর্তারা স্বাভাবিক সময়ের মতো লোকদের রক্তদান করার আহ্বান জানিয়েছেন। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে রক্তদান কর্মসূচি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান মানুষ দরকার। রক্তদানের মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যজুড়ে রক্তদানকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের ঝুঁকিপূর্ণ মানুষজন যেন কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত হতে না পারে, সেজন্য তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।
এনএইচএস রক্তদাতাদের লাইন কমাতে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করেছে এবং তাদের বিভিন্ন সময় আসতে বলা হচ্ছে। সংস্থাটির মুখপাত্র বলেন, সুরক্ষা সবসময় আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। আমরা এখন অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখছি এবং দাতাদের কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে যেন কেবল ঝুঁকিবিহীন লোকেরা অনুদানের স্থানে প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া আমাদের কর্মীরা নিয়মিত তাদের হাত পরিষ্কার করছেন এবং হাতে অ্যালকোহলের জেল ব্যবহার করছেন। এগুলোর পাশাপাশি দাতাদের বসার চেয়ার, লেমিনেটেড লিফলেট ও পানির কলের মতো সাধারণ স্থানগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে এবং সবার জন্য মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রক্তদাতাদের ভ্রমণকে জরুরি ভ্রমণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, এটা রোগীদের চিকিৎসা পেতে সহায়তা করছে। এর অর্থ রক্তদানের জন্য আপনি স্থানীয় বা আঞ্চলিক রক্তদানকেন্দ্রে গাড়িতে যেতে পারবেন।
ওয়েলশ ব্লাড সার্ভিসের পরিচালক অ্যালান প্রসের বলেন, এই কঠিন সময়ে মানুষের জীবন বাঁচাতে আমরা আমাদের রক্তদাতাদের অতিরিক্ত ভ্রমণ করতে বলছি। আমরা যেকোনো সুস্থ ব্যক্তিকে এই কঠিন সময়ে মানুষের জীবন বাঁচাতে রক্তদান করার আহ্বান জানাই। রক্তদানের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট খুঁজে পেতে এবং বুকিং দেয়ার জন্য আমাদের ওয়েবসাইট দেখার জন্য অনুরোধ করছি।
ইনডিপেনডেন্ট





