নভেল করোনাভাইরাসের উপসর্গ হিসেবে শুরুতে চিহ্নিত করা হয়েছিল কাশি, গলা ব্যথা ও জ্বরকে। একপর্যায়ে সামনে আসে, ঘ্রাণ হারানোও হতে পারে কভিড-১৯-এর গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। এবার এসে গবেষকরা বলছেন, ঘ্রাণ হারানোর বিষয়টি এমনকি কাশি ও জ্বরের চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য উপসর্গ হতে পারে।
সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) একটি গবেষণায় ঘ্রাণ কিংবা স্বাদ হারানো ৫৯০ জন মানুষের মাঝে পরীক্ষা করে তাদের ৮০ শতাংশের দেহে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডির দেখা মিলেছে। যাদের মাঝে এ অ্যান্টিবডির দেখা মিলেছে তাদের আবার ৪০ শতাংশের মাঝেই অন্য কোনো উপসর্গের দেখা মেলেনি। এ গবেষণাটি অবশ্য করা হয়েছে মৃদু উপসর্গযুক্ত লোকদের নিয়ে।
স্বাদ ও ঘ্রাণ হারানোও যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ সেই প্রমাণগুলো এপ্রিল থেকে সামনে আসতে শুরু করে। পরে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে গিয়ে এ দুটি বিষয় আনুষ্ঠানিক উপসর্গের তালিকায় যুক্ত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যদি কারো স্বাদ হারিয়ে চলে যায় এবং ঘ্রাণে কোনো ধরনের পরিবর্তন আসে সে যেন সেলফ আইসোলেশনে চলে যায় এবং করোনা টেস্ট করে নেয়।
যদিও ইউএসএল গবেষণার শীর্ষ গবেষক প্রফেসর রাচেল বাটেরহাম এপ্রিলের ২৩ তারিখ থেকে মে মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত কিছু মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করেন, যারা কিনা পূর্ববর্তী চার সপ্তাহের মাঝে স্বাদ কিংবা ঘ্রাণ হারিয়েছে। তাদের অ্যান্টিবডি টেস্টে দেখা গেছে পাঁচজনের চারজনই পজিটিভ। গবেষণা বলছে, সব করোনা আক্রান্ত রোগীর হয়তো ঘ্রাণ হারানোর বিষয়টি থাকবে না। কিন্তু যদি কেউ হারায় তবে সেক্ষেত্রে কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বিবিসি





