নভেল করোনাভাইরাস মহামারীতে ইতালিতে শিশুদের মধ্যে প্রদাহজনিত লক্ষণের বিরল ঘটনা বেড়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এ শারীরিক সমস্যা কভিড-১৯-এর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষকরা সতর্ক করেছেন, এটা বিরল লক্ষণ এবং মারাত্মক অসুস্থতা তৈরি করে। এ সমস্যার প্রকোপ অন্যান্য দেশেও দেখা দিতে পারে।

গত বুধবার মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইতালির বার্গামো প্রদেশে কভিড-১৯ মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পরই ওই অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে বিরল লক্ষণ দেখা দেয়ার ঘটনা ৩০ গুণ বেড়েছে।

মাল্টিসিস্টেম ইনফ্লামেটরি সিনড্রোম হিসেবে পরিচিত এ লক্ষণ শৈশবকালের আরো একটি অবস্থার সঙ্গে মিল রয়েছে, যা কাওয়াসাকি রোগ নামে পরিচিত। বার্গামোর পাপা জিওভানি ২৩ হাসপাতালের ডা. লুসিও ভারডোনি ও তার সহকর্মীরা ২০১৫ সাল থেকে কাওয়াসাকি রোগে আক্রান্ত শিশুদের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। তাদের নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, মহামারী হওয়ার আগে কাওয়াসাকির লক্ষণ দেখা দেয়ার ঘটনা প্রতি মাসে ০ দশমিক ৩ ছিল এবং এ বছরের মার্চ ও এপ্রিলের মধ্যে তা প্রতি মাসে ১০-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জানান দেয়।

গবেষকরা লিখেছেন, কভিড-১৯ মহামারী আক্রান্ত দেশগুলোতে কাওয়াসাকির মতো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। কাওয়াসাকি রোগ মাঝারি আকারের ধমনির দেয়ালে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং এটা হূদযন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। নতুন লক্ষণেও প্রদাহ জড়িত রয়েছে। তবে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা কাওয়াসাকি রোগ থেকে আলাদা। লক্ষণগুলোর মধ্যে এক বা একাধিক অঙ্গে জ্বর, প্রদাহ ও দুর্বল কার্যকারিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সিএনএন