১৯৯০ সালে ধারণাটি উদ্ভাবিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে মানব উন্নয়ন সূচক হ্রাস পাবে বলে জাতিসংঘ পরিচালিত একটি সমীক্ষায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কভিড-১৯ মহামারীটি মানব উন্নয়ন অগ্রগতি কয়েক দশক পেছনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
একটি প্রতিবেদনে ইউএনডিপি বলেছে, সবচেয়ে দুর্বলদের ওপর অত্যধিক চাপের পাশাপাশি করোনাভাইরাস আগের বিদ্যমান বৈষম্য আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ইউএনডিপির প্রশাসক আসিম স্টেইনার বলেন, বিশ্ব গত ৩০ বছরে ২০০৭-০৯ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটসহ অনেক সংকট দেখেছে। প্রতিটি সংকটই মানব উন্নয়নে মারাত্মক আঘাত হেনেছে, তবুও সমাগ্রিকভাবে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী মানব উন্নয়ন সূচক উন্নতি লাভ করেছে। তবে কভিড-১৯ একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আয়ের ওপর যেভাবে আঘাত করেছে, তাতে সূচকের এ উন্নতির প্রবণতা প্রতিবর্তন হতে পারে।
বর্তমান মহামারীটি উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় দেশকে একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করায় এবং উপার্জন ব্যবস্থা ধসের কারণে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবাগুলোয় আরো বেশি চাপ পড়েছে। মহামারীটি শিক্ষার ক্ষেত্রেও মারাত্মক ক্ষতি করেছে। প্রতিবেদনে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের বিদ্যালয়ের বাইরে পড়াশোনার দক্ষতার হারটি এমন স্তরে নেমে গেছে, যা সর্বশেষ ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে দেখা গিয়েছিল। এ সময়ে উন্নত বিশ্বের শিশুরা ইন্টারনেটের সুবিধা পেয়েছে এবং দূরত্ব শিক্ষার ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য রাখা ডিজিটাল সরঞ্জামগুলো থেকে তারা উপকৃত হয়েছে। কিন্তু স্বল্পোন্নত দেশগুলোর শিশুরা এ সুযোগগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার শহরে বসবাস করা শিশুরা এমন সুযোগ পেলেও গ্রামের বিস্তৃত শিশুরা এগুলোর বাইরে থেকে যাচ্ছে।
১৯৮৭-৮৯ সালে মালিতে প্লেগের প্রাদুর্ভাবে শিক্ষার ওপর প্রভাব নিয়ে ২০১৪ সালের একটি গবেষণার ফল করোনাভাইরাস-পরবর্তী পরিণতি সম্পর্কে কিছুটা হলেও আমাদের ধারণা দেয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে, মেয়েদের শিক্ষার হার খুবই নিচে নেমে গিয়েছিল এবং গ্রামীণ-শহুরে বিভাজনকে আরো প্রশস্ত করেছিল। নব্বই দশকে বেলজিয়ামে শিক্ষকদের ধর্মঘটের কারণে শিক্ষার ওপর প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিদ্যালয় থেকে দুই মাস দূরে থাকার কারণে বৃহৎ সংখ্যক শিক্ষার্থীকে পুনরায় একই ক্লাসে থাকতে হয়েছিল এবং এমনকি অনেক শিক্ষার্থীকে নিচের ক্লাসে চলে যেতে হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, পরবর্তী মাসগুলোয় বিশ্বের সব শ্রমজীবীর মধ্যে অর্ধেক মানুষ চাকরি হারাতে পারে। ইউএনডিপি জোর দিয়ে বলেছে, পৃথিবী কেবল করোনাভাইরাসজনিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের প্রাথমিক রূপ প্রত্যক্ষ করেছে।
টিআরটি ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিন





