২০১৫ সালে কঠোর সতর্কতা জানাতে একটি সম্মেলনে হতাশ চেহারা নিয়ে মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন বিল গেটস। তিনি শ্রোতাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, আগামী কয়েক দশকের মধ্যে যদি কোনো কিছু এক কোটির বেশি মানুষকে হত্যা করে, তবে সেটা যুদ্ধের চেয়ে সংক্রামক কোনো ভাইরাস হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
তার দূরদর্শী কথাগুলো সে সময় কিছু গণমাধ্যমে উঠে এসেছিল, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ আমলে নেয়নি। তবে এখন এসে সেই বক্তব্যের ভিডিওটি ৬৪ মিলিয়নেরও বেশি বার দেখা হয়েছে। কিন্তু অনেক মানুষ সেই বক্তব্যের বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে সেটার পেছনে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব খুঁজতে বেশি আগ্রহী। কেউ কেউ বিল গেটসের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অভিজাত শ্রেণীর নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ করেছেন। অন্যরা বিশ্বাস করেন, পৃথিবীর জনসংখ্যা হ্রাসে তিনি চেষ্টা করছেন। তার বিরুদ্ধে ভ্যাকসিনগুলো বাধ্যতামূলক করে তোলা বা এমনকি মানুষের মধ্যে মাইক্রোচিপ ঢোকানোর চেষ্টা করারও অভিযোগ তুলেছেন অনেকে।
ফার্স্ট ড্রাফট নিউজের ফ্যাক্ট চেকার ররি স্মিথ বলেন, বিল গেটসকে ঘিরে অসংখ্য ষড়যন্ত্র রয়েছে। বিল গেটস মনে হচ্ছে এমন এক ভুডু পুতুল, যার বিরুদ্ধে যে যার মতো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হাজির করে। এটা আশ্চর্যজনক নয় কারণ তিনি সর্বদা জনস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলে আসছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস ও জিগন্যাল ল্যাবসের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে টেলিভিশন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১২ লাখ বার বিল গেটসকে করোনাভাইরাসের সঙ্গে মিথ্যাভাবে যুক্ত করা হয়েছে। বেশির ভাগ কনটেন্ট ফেসবুক গ্রুপগুলোতে পোস্ট করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে সেটা লাখ লাখ বার শেয়ার করা হয়। ফার্স্ট ড্রাফট নিউজে আরো দেখা যায়, চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক এ জাতীয় কাজের জন্য নতুন মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
বিবিসি





