লকডাউনে থাকার সময় পপস্টার আরলো পার্কস নতুন রুটিন তৈরি করলেন মানসিক চাপ কমানোর জন্য। তিনি মা-বাবার সঙ্গে শারীরিক কসরত করা শুরু করলেন। পশ্চিম লন্ডনের বাড়িতে তারা একসঙ্গে সপ্তাহের তিনদিন ব্যায়াম করতেন। পার্কস বলেন, আমরা এ সময় বক্সিং, সার্কিট ও বার্পিজ এসবই করতাম। যদি কোনো কিছু আমার মাথায় থাকত তাহলে আমি এক ঘণ্টা ব্যায়াম করতাম। এটা আমার মস্তিষ্ককে কিছুটা হলেও পরিষ্কার করে দিত।
পার্কস ক্যাম্পেইন অ্যাগেইনস্ট লিভিং মিজারেবলির নামে একটি চ্যারিটির অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন এবং তিনি হতাশার প্রভাব নিয়ে গানও লিখেছেন। দেখা গেছে, তাকেও ব্রিটেনের হাজারো তরুণের মতো কভিড-১৯-এর অতিরিক্ত চাপের মধ্যে মানিয়ে চলতে হয়েছে।
এ সপ্তাহে গার্ডিয়ান কর্তৃক সরকারি ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্রিটেনে বিষণ্নতায় ভোগা বয়স্ক মানুষের সংখ্যা কভিড-১৯-এর মহামারীতে দ্বিগুণ হয়ে গেছে, যেখানে তরুণ, নারী, প্রয়োজনীয় কর্মী এবং জরুরি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং অক্ষম মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৩ হাজার ৫০০ মানুষের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হওয়া একটি জরিপে দেখা গেছে, পাঁচজনের একজন (১৯.২%) উত্তরদাতা
এ বছরের জুন মাসে বিষণ্নতায় ভুগেছে।
যেখানে সব বয়সী মানুষই বিষণ্নতার অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছে, সেখানে অনুপাতের দিক থেকে সবচেয়ে বড় অংশটিতে ছিল তরুণরা। জুলাই ২০১৯ এবং মার্চ ২০২০ সাল পর্যন্ত ১৬ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের ১১ শতাংশ হতাশায় ভোগার কথা বলেছিল। যা কিনা জুনে গিয়ে উন্নীত হয়েছে ৩১ শতাংশে।
মহামারীতে পুরুষের চেয়ে আবার নারীদের বিষণ্নতায় ভোগার অভিজ্ঞতা বেশি ছিল, যেখানে ২৩ শতাংশ সহনীয় থেকে তীব্র উপসর্গের কথা উল্লেখ করেছে। প্রাদুর্ভাবের শুরুর আগে যা ছিল অনেক কম।
ইয়ারস অ্যান্ড ইয়ারস পপ গ্রুপের অভিনেতা ও লিড গায়ক ওলে আলেকসান্দার এর আগে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে ২০১৬ সালে কথা বলেছিলেন গার্ডিয়ানের সঙ্গে। এবার তিনি বলেছেন, লকডাউনের কারণে ক্যারিয়ারে অকস্মাৎ ছেদ পড়া সিস্টেমকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমি সব সময় কাজ করতে এবং নিজেকে ব্যস্ত রাখতে অভ্যস্ত। এটা যেন সবকিছু চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে আমার ওপর পড়ার মতো ছিল।
আলেকাসান্দার বলেন, তিনি কাজের একটি লিস্টও তৈরি করেছিলেন, যেখানে শারীরিক ও মানসিক উভয়েই অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি তিনি প্রতিদিন করার চেষ্টা করেন। তিনি জগিং করেন, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস গ্রহণ করেন, সপ্তাহে একদিন জুমে থেরাপিস্টের সঙ্গে কথা বলেন। বাড়ির গাছপালা দেখাশোনা করেন এবং দিনে তিন বেলা খাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, যদি আপনি একটা রুটিন তৈরি করতে পারেন, এমনকি আপনি যদি তা প্রতিদিন নাও করতে পারেন, তার পরও আপনি সহজ বিষয়টি দিয়ে শুরু করতে পারেন।
আলেকসান্দার ও পার্কস দুজনই মানসিক স্বাস্থ্যকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডায়েরি লেখার কথা বলেন। আলেকসান্দারের মতে, এটা তাকে সাহায্য করে, তিনি কেমন বোধ করছেন তা নিজের কাছে ব্যক্ত করার জন্য। পার্কস বলেন, তিনি লিখেন শুতে যাওয়ার আগে, যার ফলে এটি অনুমতি দেয় নিজের প্রতি দৃষ্টি দিতে। তিনি বলেন, আমার প্রায়ই ঘুমোতে কষ্ট হয়। অনেক কিছু নিয়ে মাথায় চিন্তা চলে আসে। তাই এ রকম কিছু আমাকে চিন্তাগুলো ঝেড়ে ফেলতে সাহায্য করে। ফলে সেগুলো মাথার আশপাশে আর ঘুরঘুর করে না।
লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক একজন ফোক গায়ক দেভেন্দ্র বানহার্ট বলেছেন, তিনি নিয়মিত জগিং শুরু করেছেন, মহাযান বৌদ্ধ ধর্ম চর্চার অংশ হিসেবে তিনি ধ্যান করছেন এবং যেকোনো সমস্যায় বন্ধুদের ডেকে পরামর্শ করছেন। তিনি বলেন, আমি নিজের চিন্তা থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখতে পেরেছি ধ্যানের কারণে। যদি তার পরও আমি না পারি এবং সমস্যায় পড়ি তবে কাউকে ফোন করি, সে আমাকে সাহায্য করে। আমি জগিংও করি, কারণ এর মাধ্যমে আমার মস্তিষ্কেরও একটি ভ্রমণ হয়ে যায়। প্রাসঙ্গিক অনেক প্রতিষ্ঠান কভিড-১৯ থেকে পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় মানসিক স্বাস্থ্যকে যুুক্ত করার বিষয়ে সরব হচ্ছে।
আলেকসান্দার, বানহার্ট ও পার্কস সবাই মনে রেখেছিলেন যে এ অনুভূতি সংক্ষিপ্ত। অদ্রে লর্ডে থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে পার্কস বলেন, ‘যন্ত্রণা হয় বদলাবে, নয়তো শেষ হবে।’
দ্য গার্ডিয়ান





