করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার রোধে সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর মধ্যে জনসমাগমে মাস্ক পরা, ন্যূনতম শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং কিছুক্ষণ পরপর অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া- এই তিনটি প্রধান। 

নভেল করোনাভাইরাস সৃষ্ট কভিড-১৯ রোগে মূলত অধিকহারে আক্রান্ত হচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করা। এর মধ্যে মৃত্যুহার আবার বেশি প্রবীণ ও কো-মর্বিডিটি (ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ ইত্যাদি) রয়েছে এমন মানুষের। শিশু-কিশোরদের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যু খুবই কম। এ কারণে গত ৫ জুন করোনা সংক্রমণ বিস্তার ঠেকাতে মাস্ক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও শিশুদের জন্য আলাদা করে কোনো গাইডলাইন দেয়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

কিন্তু মহামারীর মধ্যে কোনোভাবেই সংক্রমণের পথ খোলা রাখা উচিত নয়। এ  কারণে শিশু-কিশোরদের জন্যও এবার আলাদা স্বাস্থ্যবিধি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। কোন বয়সের শিশু-কিশোরের জন্য কী কী সতর্কতা নেয়া প্রয়োজন তা জানিয়ে ডব্লিউএইচও এবং ইউনিসেফের ওয়েবসাইটে গাইডলাইন দেয়া হয়েছে। 

শিশু-কিশোরদের করোনা স্বাস্থ্যবিধিতে বলা হয়েছে, বারো বা তার বেশি বয়সী কিশোরদের বড়দের মতোই নিয়মিত মাস্ক পরা উচিত। ছয় থেকে এগারো বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে মাস্ক পরতে হবে পরিস্থিতি বুঝে। যেমন, সংক্রমণের হার কেমন, মাস্ক ব্যবহারে শিশুর স্বাচ্ছন্দ্য রয়েছে কিনা, মাস্ক সহজলভ্য কিনা, বড়দের পক্ষে তাদের ওপর পর্যাপ্ত নজরদারি সম্ভব কিনা— এসবের ওপরেই শিশুর মাস্ক পরা নির্ভর করবে। আবার পাঁচ বছর বা তার থেকে ছোটদের মাস্ক পরার তেমন প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একেবারে ছোটদের তুলনায় বড় শিশু বা কিশোরদের ভাইরাস ছড়ানোর সক্ষমতা অনেক বেশি। 

এছাড়া এই মহামারী পরিস্থিতিতে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দিতে বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।  সতর্ক করে বলা হয়েছে, নতুন পরিস্থিতিতে তাদের দেখা, শেখা এবং সামাজিক ও মানসিক বিকাশ বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। একাকিত্বে ভুগতে পারে অনেকে। আরো অন্তর্মুখী হয়ে উঠতে পারে। আবার সামাজিক মেলামেশায় অস্বস্তিতে ভুগতে পারে কেউ কেউ।

এদিকে এবছরের মধ্যে করোনার ভ্যাকসিন আনার তোড়জোড় চলছে সব দেশেই। চীন, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশেই ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা চলছে। এর মধ্যে রাশিয়া ‘তড়িঘড়ি’ করতে গিয়ে ট্রায়াল শেষের আগেই ভ্যাকসিনের ছাড়পত্র দিয়েছে। উৎপাদনেও গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। চীনও ট্রায়ালের চূড়ান্ত ধাপে আছে। ভারতও চলতি বছরেই ভ্যাকসিন আনার ঘোষণা দিয়েছে, যদিও তার সম্ভাব্যতা নিয়ে দেশেই চলছে বিতর্ক। 

তবে আপাতত ওষুধবিহীন প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেই সর্বাগ্রে স্থান দিচ্ছেন বিশেজ্ঞরা। মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক তৎপরতা স্বাভাবিক করতে এছাড়া কোনো গতি নেই।