ক্ষুধামান্দ্য বা আহারের সমস্যাজনিত রোগে ভোগা মানুষ এমনিতেই সারা জীবন খাবার নিয়ে লড়াই করতে থাকে। কিন্তু চলমান নভেল করোনাভাইরাসের সংকট তাদের এ লড়াইকে বহুগুণে কঠিন করে তুলেছে। একদিকে খুব কমসংখ্যক খাবার তাদের জন্য ‘নিরাপদ’ হিসেবে বিবেচিত, অন্যদিকে লকডাউনে এগুলো কেনা ও পাওয়া নিয়ে চলছে সংকট।

যুক্তরাজ্যের কারা লিসেট তার জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় ক্ষুধামান্দ্য রোগ অ্যানোরেক্সিয়ার সঙ্গে লড়াই করে কাটিয়েছেন। খুব কম খাবার রয়েছে, যেগুলো খাওয়া তার জন্য নিরাপদ। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের এ লকডাউনের মধ্যে নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত কয়েকটি খাবার নিয়ে তিনি মহাবিপদে পড়েছেন।

যুক্তরাজ্যের ২৯ বছর বয়সী নার্স লিসেট বলেন, ১৩ বছর বয়সে আমি একটি খাওয়ার ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিলাম। কয়েক বছর ধরে পুনরুদ্ধার চক্রের পর গত জুনে আরো একবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। তার পর থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী একটি বহির্মুখী চিকিৎসা প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলাম।

তিনি থেরাপি গ্রুপে অংশ নিয়েছিলেন এবং সেখানে তদারকির মধ্যে তিনটি খাবার খাচ্ছিলেন। কিন্তু যুক্তরাজ্য সরকার লকডাউন ঘোষণার পর চিকিৎসা প্রোগ্রামটি বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, খাবারের সাপোর্ট না থাকা জীবনযাপন খুব কঠিন করে তুলেছে। মনে হচ্ছে আমার কাছ থেকে চিকিৎসা চুরি হয়ে গেছে। এখন আমাকে খাবার, ক্যালরি ও ব্যায়াম নিয়ে প্রচুর চিন্তা করতে হচ্ছে।

নভেল করোনাভাইরাসের এ লকডাউনে লিসেটের মতো খাদ্য রোগে ভুগতে থাকা যুক্তরাজ্যের ১২ লাখের বেশি মানুষ একই সমস্যায় পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এমন মানুষের সংখ্যা তিন কেটি।

সিএনএন