আপনি যদি একজন নারী হন এবং নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম সপ্তাহে একাধিক উপসর্গ থাকে, তাহলে আপনার লং কভিডে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। ‘কভিড সিমটম স্টাডি অ্যাপ’র ডাটা ব্যবহার করে কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষকদের নতুন একটি গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণাটিতে দেখা গেছে, কভিড-১৯-এ সংক্রমিত ২০ জনের মধ্যে একজন আট সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে অর্থাৎ লং কভিডের লক্ষণ ভোগ করতে পারে। বিশ্বজুড়ে কয়েক লাখ মানুষ লং কভিডে ভুগছেন। গবেষকরা এখন লং কভিডের ঝুঁকির কারণগুলো চিহ্নিত করেছেন। লং কভিডে কারা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, তা কিছুটা অনুমান করেছেন গবেষকরা।
এক্ষেত্রে সংক্রমণের প্রথম সপ্তাহে পাঁচটিরও বেশি বিভিন্ন লক্ষণ থাকা লং কভিডে ভোগার অন্যতম প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অ্যাপটিতে মাথাব্যথা, অবসাদ, স্বাদ বা ঘ্রাণের অনুভূতির ক্ষতি, জ্বর ও ক্রমাগত কাশি—এ পাঁচটি লক্ষণ সবচেয়ে সাধারণ বলে জানিয়েছেন কভিড-১৯ সংক্রমিতরা। অন্য লক্ষণগুলোর মধ্যে ফুসকুড়ি, ডায়রিয়া ও বমি বমি ভাব অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গবেষণাটিতে ৫০ বছরের কম বয়সী নারীদের পুরুষের তুলনায় লং কভিডে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ৫০ শতাংশ বেশি পাওয়া গেছে। নারীদের লং কভিডে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ১৪ দশমিক ৫ শতাংশের তুলনায় পুরুষদের ছিল ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এ লিঙ্গ ব্যবধান দেখা যায়নি। এদিকে আবার সামগ্রিকভাবে লং কভিডে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে। ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে লং কভিডে আক্রান্তের হার পাওয়া গেছে ১০ শতাংশ। অন্যদিকে ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এ হার পাওয়া গেছে ২২ শতাংশ।
লং কভিডের ক্ষেত্রে শরীরের ওজনেরও ভূমিকা দেখা গেছে। কম ওজনের লোকদের তুলনায় বেশি ওজনের লোকদের লং কভিডে আক্রান্ত হওয়ার হার কিছুটা বেশি। সমীক্ষাটিতে কভিড সিমটম স্টাডি অ্যাপ ব্যবহারকারী ৪ হাজার ১৮২ জন কভিড-১৯ সংক্রমিতের ডাটা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে তারা করোনাভাইরাস পজিটিভ পরীক্ষা করেছিলেন।
গবেষণা দলটি পেয়েছেন, বেশির ভাগ কভিড-১৯-এ সংক্রমিত ব্যক্তিরা ১১ দিনের বা তার কম সময়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছেন। সাতজনের মধ্যে একজনের (১৩ দশমিক ৩ শতাংশ) কমপক্ষে চার সপ্তাহ ধরে স্থায়ীভাবে কভিড-১৯-এর লক্ষণ ছিল, ২০ জনের মধ্যে প্রায় একজন (৪.৫ শতাংশ) আট সপ্তাহ ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং ৫০ জনের মধ্যে ১ জন (২ দশমিক ৩ শতাংশ) ১২ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অসুস্থ ছিলেন।
গবেষণাটির নেতৃত্ব দেয়া কিংস কলেজ লন্ডনের জিনগত মহামারীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক টিম স্পেক্টর বলেন, বেশির ভাগ মানুষের কাছেই কভিড-১৯ হালকা অসুস্থতা। তবে ভাইরাসটিতে সংক্রমিত ৫০ জনের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো ১২ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে থাকতে পারে।
হাফপোস্ট





