পিটার কোয়াজ ঠাণ্ডা লাগা ও হালকা জ্বরের মতো করোনাভাইরাসের উপসর্গ অনুভব করা শুরু করেন। এক রাতে তিনি মুরগি রান্না করতে গিয়ে কোনো ঘ্রাণ পাননি। সেটাকে তিনি গুরুত্ব না দিলেও পরদিন সকালে ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে ব্লিচের ঘ্রাণ না পেয়ে তার মনে খটকা লাগে। তিনি ব্লিচের বোতলটি কাছে নিয়ে ঘ্রাণ নেয়ার চেষ্টা করেন, এতে তার নাক ও চোখ জ্বালা করলেও তিনি কোনো ঘ্রাণ পাননি।
ঘ্রাণে অক্ষমতা বা ঘ্রাণশক্তির লোপ কভিড-১৯-এর সাধারণ উপসর্গ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কোয়াজের কভিড-১৯ নির্ণয় করা হয়েছিল, যদিও তার পরীক্ষা করা হয়নি। কারণ পরীক্ষাগুলো তখনো ব্যাপকভাবে চালু ছিল না। ঘ্রাণশক্তির বিষয়ে তিনি একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা নিয়েছিলেন এবং এখনো তার ঘ্রাণের অনুভূতি পুরোপুরি ফিরে পাননি।
কেস রিপোর্টে দেখা গেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৪ থেকে ৯৮ শতাংশ রোগী ঘ্রাণশক্তি লোপের সমস্যায় ভুগেছে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, কভিড-১৯ রোগীদের ঘ্রাণশক্তি হারানোর আশঙ্কা অন্যদের চেয়ে ২৭ গুণ বেশি। কভিড-১৯ রোগীদের মধ্যে যারা ঘ্রাণশক্তি লোপের সমস্যায় আক্রান্ত হয়, তাদের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই অনুভূতি ফিরে আসে। তবে চিকিৎসকরা এখনো জানেন না যে ভাইরাসটি দীর্ঘমেয়াদে ঘ্রাণশক্তি নষ্ট করে কিনা। ঘ্রাণ না পাওয়া একটি সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মতো শোনা যায়, তবে ফলাফলগুলো ধ্বংসাত্মক হতে পারে। ঘ্রাণের সঙ্গে আগুন, রাসায়নিক দ্রব্য বা ক্ষতিকারক খাবারের ঘ্রাণ নেয়ার ক্ষমতা, স্বাদ বাছাই এবং খাবার উপভোগ করার ক্ষমতা আবশ্যিকভাবে জড়িয়ে আছে।
ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর স্মেল অ্যান্ড টেস্টের পরিচালক স্টিভেন মুঙ্গার বলেছেন, আমাদের একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অনেকগুলো উপায় খাবার বা পানীয়ের ওপর নির্ভর করে। আপনি যদি এতে পুরোপুরি অংশ নিতে না পারেন, তবে এটা এক ধরনের সামাজিক ব্যবধান সৃষ্টি করে।
বিজ্ঞানীরা কভিড-১৯ কেন ঘ্রাণশক্তি দুর্বল করে এবং অন্যান্য ভাইরাল আক্রমণকারীর চেয়ে ঘ্রাণশক্তিকে আলাদাভাবে প্রভাবিত করে কিনা সে সম্পর্কে কেবল প্রশ্ন করা শুরু করেছেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মানুষের ঘ্রাণশক্তি নিয়ে গবেষণা করা নিউরোবায়োলজির অধ্যাপক সন্দীপ রবার্ট দত্ত বলেছেন, সর্দি লাগলে ঘ্রাণশক্তি কীভাবে পরিবর্তিত হয় সে সম্পর্কে আমরা আসলে খুব কমই জানি। আপনার ঘ্রাণের ক্ষয়ক্ষতিগুলো কী কী? কতক্ষণ এটা টিকবে? এই প্রাথমিক বিষয়গুলো আসলে আমরা জানি না।
নাক সেই প্রাথমিক জায়গাগুলোর একটি, যার মধ্য দিয়ে কভিড-১৯ ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। গবেষকরা এরই মধ্যে দুই ধরনের নাকের কোষ চিহ্নিত করেছেন। গবলেট ও সিলিয়েটেড নামে দুই কোষই সম্ভবত ভাইরাস প্রবেশের পয়েন্ট। ফিলাডেলফিয়ার মোনেল কেমিক্যাল সেন্স সেন্টারের সহযোগী পরিচালক ড্যানিয়েল রিড বলেন, মনে হচ্ছে সিনো-নাসাল কোষ ভাইরাসটি প্রবেশের স্থান। এমন অনেক মানুষ আছে যারা ভাবে, ভাইরাসটি একবার নাকের মধ্যে গেলে, তখন এটি ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ে।
কভিড-১৯ ঘ্রাণব্যবস্থাকে কীভাবে ব্যাহত করে তা বুঝতে বিজ্ঞানীরা প্রথমে সম্ভাব্য সংক্রামক লক্ষ্যগুলোর তালিকা করেছিলেন। ভাইরাসটি একটি কোষে প্রবেশের জন্য এসিইটু ও টিএমপিআরএসএসটু নামে দুটি প্রোটিন দরকার। গবেষকরা ঘ্রাণ ব্যবস্থায় দুর্বল কোষগুলোর সন্ধান করেছিলেন, যা এই দুটি প্রোটিন প্রকাশ করেছিল।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক





