বিনিয়োগকারীরা নভেল করোনাভাইরাসকে ‘ব্ল্যাক সোয়ান ইভেন্ট’
নামে অভিহিত করেছেন। এটা সম্পূর্ণভাবে অপ্রত্যাশিত ও বিরল, যা হুট করে এসেই সবকিছুকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। কভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারগুলোকে কার্যত অচল করে দিয়েছে। যার ফলে স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা পুরোপুরি ডুবে গেছে। একই সঙ্গে ভাইরাসটি প্রতিটা মানুষের পেনশন ও বিনিয়োগের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতি থেকে উঠে দাঁড়াতে এবং নিজের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আতঙ্কিত হবেন না
সংকটময় এ পরিস্থিতিতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে তাদের শেয়ারবাজারের সব বিনিয়োগ বিক্রি করে দিতে চাইতে পারেন। কিন্তু মনে রাখবেন আপনার আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিতে এ সিদ্ধান্ত সবচেয়ে খারাপ হবে। কারণ এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ বিক্রি করে দিতে চাইলে অবশ্যই আপনার লোকসান হবে। অথচ ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে আপনি মুনাফাসহ বিনিয়োগ ফেরত পেতে পারেন।
দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করুন
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করার আগে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করে নিন। শেয়ারবাজারের বিনিয়োগ কেবল দীর্ঘমেয়াদি এবং আপনার অবসর গ্রহণের সঞ্চয় হিসেবে হওয়া উচিত। তাহলে হঠাৎ করে আসা কোনো বিপর্যয় আপনাকে খুব বেশি চিন্তায় ফেলতে পারবে না।
এছাড়া জরুরি অবস্থার জন্য প্রত্যেকের অন্তত ছয় মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের সমপরিমাণ অর্থ নগদ পর্যায়ে সংরক্ষণ করা উচিত। এটা আপনি এমন একটি সঞ্চয়ী হিসাবে সংরক্ষণ করুন, যেখান থেকে আপনি যেকোনো সময় এ অর্থ তুলতে পারবেন।
সুযোগ সন্ধান করুন
অনেকেই তাদের শেয়ার ছাড় দিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছেন, তাই দরকষাকষি করার জন্য এটি ভালো সময় হতে পারে। আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করে থাকেন, তাহলে দর যতই কমে যাক না কেন আপনার চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ পাঁচ বা দশ বছরের মধ্যে সেগুলো অবশ্যই উঠে দাঁড়াবে।
লভ্যাংশ মনে রাখুন
গত ২০ বছর তুলনায় বর্তমানের এফটিএসই ১০০ সবচেয়ে নিম্ন স্তরে রয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা অর্থ উপার্জন করেনি বা লোকসান করছে। কারণ লভ্যাংশের মাধ্যমে তারা ঠিকই আয় করবেন। এফটিএসই ১০০ প্রতি বছর নগদ মুনাফার চেয়ে ৪ থেকে ৫ শতাংশের বেশি আয় করে। আপনি যদি এ বৃদ্ধির জন্য পুনরায় বিনিয়োগ করেন তাহলে আপনি নিয়মিতভাবে আরো বেশি শেয়ার বা তহবিল ইউনিট কিনবেন।
কেউ ভবিষ্যতের পূর্বাভাস দিতে পারে না
পরে কী হতে চলেছে তা কেউ জানে না। সেটা জানা কখনো সম্ভবও নয়। তাই কৌশল হলো আপনার অর্থ দীর্ঘমেয়াদে ছেড়ে চলে যাওয়া এবং প্রতিদিন কী হচ্ছে তা নিয়ে খুব বেশি হতাশ না হওয়া। যদি দেখেন এগুলো আপনাকে রাতে ঘুমাতে দিচ্ছে না, তাহলে শেয়ারগুলোর ডে টু ডে আপডেট নেয়া এড়িয়ে চলুন।
সেরা পরামর্শ হলো আপনার সমস্ত ডিম কখনই একটি ঝুড়িতে রাখবেন না। শেয়ার, নগদ, বন্ড, স্বর্ণ ও সম্পত্তির মধ্যে আপনার অর্থ ছড়িয়ে দিন। কারণ কখনই একসঙ্গে সবকিছু ক্রাশ করে না। এখন সত্যিই এটা একটি ‘ব্ল্যাক সোয়ান ইভেন্ট’
হবে।
রিডার্স ডাইজেস্ট





