এপ্রিলের মাঝামাঝি; বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস মহামারীর সময়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই প্রবাসী প্রকৌশলী ফরহাদুল ওসমানী রিক্তনসহ আরো কয়েকজন ডিজইনফেকশন স্টেরিলাইজেশন সিস্টেম বিষয়ে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে সর্বসাধারণের সহজলভ্য দেশীয় ম্যাটেরিয়াল ও দক্ষ জনবল কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবনী কোনো সমাধান করা যায় কিনা, তা ভাবছিলেন।
এই প্রকৌশলীদের বিবেচনায় ছিল যে নিত্যপণ্যসামগ্রী, পিপিই, ব্যাগ, ঘড়ি, জামাকাপড়, জুতো, চশমা, সেলফোন, মানিব্যাগ ইত্যাদি সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করতে পারলে:
১. বিশ্বব্যাপী পিপিই সংকটের এ সময়ে কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নায়ক ও কভিড ফ্রন্টলাইনারদের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমানো যাবে
২. মাস্ক, গ্লাভস ইত্যাদি অধিকবার পুনর্ব্যবহার করা যাবে, ফলে বিশ্বমন্দার এ সময়ে দেশের বাড়তি ব্যয়ের জটিল অংকটি সরল হতো।
৩. স্বল্পসংখ্যক পিপিই ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষণ হ্রাস পেত।
৪. বাসায় বা কর্মস্থলে এসেই নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী দ্রুত জীবাণুমুক্ত
করতে পারলে পরিবারের সদস্যদের বা সহকর্মীদের সংক্রমণের হার কমে যেত।
পরবর্তী সময়ে এ উদ্যোগে যুক্ত হন প্রকৌশলী গবেষক দিহান হাসান, তরুণ প্রকৌশলী মো. শফিকুজ্জমান শামীম ও রকস্টার প্রকৌশলী মুশফিক হেরাক্লিয়াস জেন। তাদের কর্মতত্পরতায় সম্প্রতি অতিবেগুনি রশ্মি কর্তৃক স্মার্ট ও স্বয়ংক্রিয় ইউভিসি স্টেরিলাইজেশন চেম্বারের প্রটোটাইপ তৈরি হয়। প্রচলিত তরল রাসায়নিক নির্ভর জীবাণুনাশক প্রক্রিয়ার তুলনায় ইউভিসি (আল্ট্রাভায়োলেট সি) জার্মিসাইডাল টেকনোলজি যেকোনো পৃষ্ঠে অধিক মাত্রায় কার্যকর, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিবেশবান্ধব এবং নিশ্চিত করে নিত্যব্যবহার্য ও মূল্যবান পিপিই সামগ্রীর পুনর্ব্যবহার।
এই ইউভিসি ডিজইনফেকশন নিশ্চিত করছে ১. সঠিক ইউভিসি ডোজ নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং, ২. নির্ভরযোগ্য ডোর-ইন্টারলক সিস্টেম, ৩. স্মার্ট ওজোন ভেন্টিলেশন সিস্টেম, ৪. ডিজাইন কাস্টমাইজেশন; যা পূরণ করবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও চাহিদা।
প্রটোটাইপটি এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষাধীন রয়েছে, যা জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে উৎপাদনে যাবে এবং অনুমোদন পেলে শিগগিরই ক্লিনটেক বাংলাদেশ লি. তাদের ব্যানারে বাজারজাত করবে।
এই স্মার্ট ইউভিসি ডিজইনফেকশন চেম্বার হাসপাতাল, ল্যাবরেটরি, শিল্প-কারখানা, নার্সিং হোম, স্কুল, অফিস, ডেন্টাল ক্লিনিক, ব্যাংকসহ আরো অনেক ধরনের প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা যাবে।





