সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের দায়মুক্তির অবসান দিবস পালন করা হয় ২ নভেম্বর। এ আন্তর্জাতিক দিবস ঘোষণার প্রায় এক দশক পরও কেনিয়ায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা সাধারণ ঘটনা হিসেবেই রয়ে গেছে। নির্বাচন ও দুর্নীতির খবর প্রকাশ সাধারণত এ আক্রমণগুলোকে উৎসাহিত করে। বর্তমানে করোনাভাইরাস মহামারীতে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের প্রতি রাষ্ট্রের অসহিষ্ণুতা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
গত মার্চে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয়। সংক্রমণ প্রতিরোধে মার্চের শেষ দিকে সরকার কারফিউ চাপিয়ে দিয়েছিল। এর পরই কারফিউ প্রয়োগে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের চিত্র গণমাধ্যমে উঠে আসে। উঠে আসে পুলিশের বর্বরতায় তিনজনের মৃত্যুর খবরও।
এরপর পুলিশ তাদের বর্বরতার খবর প্রকাশ করা সংবাদিকদের হয়রানি শুরু করে। গত মাসে মহামারী সম্পর্কে প্রতিবেদন করা নিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৪৮টি হয়রানির খবর পাওয়া গেছে। ভাইরাসটির প্রথম সংক্রমণ শনাক্তের ছয় সপ্তাহের মধ্যেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ২২টি হয়রানির ঘটনা ঘটে। এ হয়রানির মধ্যে শারীরিক লাঞ্ছনা, গ্রেফতার, মৌখিক ও অনলাইনে হুমকি-ধমকি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যদিও প্রথমে দেশটিতে সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা কর্মী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল এবং কারফিউ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। তবে প্রতিবেদনগুলো বলছে, দায়িত্ব পালন করা অবস্থাতেই সাংবাদিকরা এ হয়রানির শিকার হচ্ছে।
অন্তত ১০ জন সাংবাদিক ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিকারীকে কম্পিউটার অপব্যবহার ও সাইবার অপরাধ আইন ২০১৮-এর অধীনে মামলা করার জন্য গ্রেপ্তার ও হুমকি দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ ও ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। এছাড়া কারফিউকে অবজ্ঞা করার অভিযোগে আরো কমপক্ষে ১০ জনকে পাবলিক অর্ডার আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কিছু মন্তব্যকারী সাম্প্রতিক এ ঘটনাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত হিসেবে মনে করছেন। তাদের অভিযোগ, করোনাভাইরাস সংকটে সরকারের অদক্ষতা আড়াল করতেই মিডিয়া কর্মীদের দমন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে কভিড-১৯ নিয়ে দুর্নীতি ও অদক্ষতার অভিযোগ উঠেছে। যদিও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ হুমকি ও আক্রমণের কার্যকরভাবে তদন্তও হচ্ছে না। মহামারীটি শুরু হওয়ার পর থেকে কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের মামলা নেয়ার নজির নেই। এজন্য ২০২০ সালে বিশ্ব গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে তিন ধাপ অবনমন হয়ে কেনিয়ার অবস্থান এখন ১৮০টি দেশের মধ্যে ১০৩তম স্থানে চলে গেছে।
দ্য প্রিন্ট





