করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ‘মাল্টিসিস্টেম ইনফ্লামেটরি সিনড্রোম’ শনাক্তের কয়েক মাস পর স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন একই সমস্যায় প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হতে পারেন। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) ‘প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মাল্টিসিস্টেম ইনফ্লামেটরি সিনড্রোম’ বা এমআইএসের বর্ণনা করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, শিশুদের শরীরের লক্ষণের মতো ‘এমআইএস-এ’ একাধিক অঙ্গকে লক্ষ্য করে গুরুতর অসুস্থতা সৃষ্টি করে এবং শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে তোলে। কভিড-১৯-এ সদ্য পজিটিভ হওয়া কিংবা সাম্প্রতিক সংক্রমণের কারণে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি থাকা রোগীদের মধ্যে উভয় লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

সিডিসির প্রতিবেদনে প্রায় দুই ডজন মানুষের মধ্যে এমআইএস-এ চিহ্নিত করা হয়েছে। সিডিসির মরবিডিটি অ্যান্ড মর্টালিটি জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে সামঞ্জস্যপূর্ণ ইঙ্গিত ও লক্ষণ অনুযায়ী চিকিত্কদের এমআইএস নির্ণয় করার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

শিশুদের মধ্যে রহস্যজনক প্রদাহের ঘটনাগুলো বসন্তে প্রথম চিহ্নিত করা হয় এবং চিকিৎসকরা এটাকে এমআইএস-সি হিসেবে অভিহিত করেন। সিডিসির মতে, এটা শিশুদের একাধিক অঙ্গকে আক্রান্ত করে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে শিশুরা জ্বর, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, ঘাড়ে ব্যথা, ফুসকুড়ি, চোখে রক্ত জমা হওয়া ও ক্লান্তি অনুভব করতে পারে। এখন পর্যন্ত সিডিসি যুক্তরাষ্ট্রে এমআইএস-সির ৯৩৫টি ঘটনার প্রতিবেদন পেয়েছে, যার মধ্যে ১৯ জন মারা গেছে।

এদিকে গ্রীষ্মকালে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও একই ধরনের লক্ষণের খবর পাওয়া গেছে। সিডিসির নতুন প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ২৭টি এমআইএস-এর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি ঘটনা ছিল ২১ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের মধ্যে। কিছু প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে জ্বর, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ও ফুসকুড়ির মতো লক্ষণ দেখা যায়। কিছু রোগীর বুকে ব্যথা বা ধড়ফড়ানি ছিল এবং উচ্চস্তরের প্রদাহ ছিল। সব রোগীরই কভিড-১৯ পজিটিভ কিংবা ভাইরাসটির বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি শনাক্ত হয়েছিল, যা সাম্প্রতিক সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। এর মধ্যে ১০ জন রোগীর আইসিইউতে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছিল এবং দুজন রোগী মারা গিয়েছিল।

গবেষকরা লিখেছেন, অনুসন্ধানগুলো ইঙ্গিত দেয় যে বর্তমান বা আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যেকোনো বয়সের রোগীর এমআইএস-সির মতো হাইপার ইনফ্লামেটরি সিনড্রোম দেখা দিতে পারে। সাধারণভাবে কভিডে আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা ফুসফুসের প্রদাহ অনুভব করতে পারে।

সায়েন্স অ্যালার্ট