নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগীরা তাদের অসুস্থতার প্রথম সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি সংক্রামক থাকে। তাই তাদের আলাদা করা জরুরি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্য ও ইতালির গবেষকরা। তাদের গবেষণা বলছে, কভিড-১৯ সংক্রমিত রোগীরা ৮৩ দিন পর্যন্ত ভাইরাল কণাগুলো ছড়িয়ে থাকতে পারেন। তবে লক্ষণ দেখা দেয়ার নয়দিন পর ভাইরাল কণাগুলোর আর সংক্রমণযোগ্যতা থাকে না।

শুক্রবার ল্যানসেট মাইক্রোব জার্নালে প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, সংক্রমিত রোগীদের শ্বসনতন্ত্রে ভাইরাল আরএনএর উপস্থিতি দীর্ঘায়িত হলেও রোগীরা কেবল প্রথম কয়েকদিন সংক্রামক থাকে। ব্রিটেনের এডিনবার্গ ও সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইতালির নেপলসের কোটুগনো হাসপাতালের গবেষকরা জানিয়েছেন, সংক্রমিতদের শ্বাস-প্রশ্বাস ও মলের নমুনায় সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের আরএনএ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তবে ভাইরাসটির সময়কাল তুলনামূলক স্বল্পস্থায়ী হয়ে থাকে। অসুস্থতার প্রথম সপ্তাহে শ্বসনযন্ত্রে সবচেয়ে বেশি ভাইরাস থাকে। এজন্য সংক্রমিতদের আগেভাগে শনাক্ত, বিচ্ছিন্ন করা এবং অসুস্থতা ও সংক্রামক থাকার সময়সীমা নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা ভাইরাসটি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি।

গবেষণাটির মূল লেখক সেন্ট অ্যান্ড্রুস বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মুগে সেভিক বলেন, এটিই প্রথম পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ও মেটা বিশ্লেষণ, যেখানে তিনটি মানব করোনাভাইরাসের ভাইরাল লোড ও সেগুলো ছড়িয়ে পড়া নিয়ে ব্যাপকভাবে পরীক্ষা ও তুলনা করা হয়েছে। সার্স ও মার্সের তুলনায় কভিড-১৯ কেন আরো দক্ষতার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে এবং এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা কেন বেশি কঠিন, তা সম্পর্কে গবেষণাটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা তুলে ধরেছে। বেশির ভাগ ভাইরাল সংক্রমণ প্রথম কয়েকদিনে ঘটে থাকে; বিশেষত লক্ষণ শুরু হওয়ার প্রথম পাঁচদিনের মধ্যে। লক্ষণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেলফ কোয়ারেন্টিন পালনের গুরুত্ব নির্দেশ করে গবেষণাটি।

গবেষকরা লিখেছেন, আমাদের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে, কভিড-১৯ সংক্রমিত রোগীরা ৮৩ দিন পর্যন্ত ভাইরাল কণাগুলো ছড়িয়ে থাকতে পারে। তবে লক্ষণ দেখা দেয়ার নয়দিন পর ভাইরাল লোড থাকা সত্ত্বেও আর কোনো জীবিত ভাইরাস বের হয় না।

তারা বলেন, এ সন্ধানটি ভাইরাল লোড ও ভাইরাসের কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণার সঙ্গে মিলে গেছে। এ অনুসন্ধানগুলো ইঙ্গিত দেয়, ক্লিনিক্যাল অনুশীলনে পুনরায় পরীক্ষা করা রোগীদের আর সংক্রামক হিসেবে চিহিন্ত করা যায় না। সংক্রামকতার সময়কাল ও পরবর্তী বিচ্ছিন্নতার সময়সীমা ভাইরাল লোডের গতিশীলতা প্রতিফলিত করতে পারে। এক্ষেত্রে গুরুতর না এমন সংক্রমণের ক্ষেত্রে লক্ষণ দেখা দেয়ার ১০ দিন পর্যন্ত গণনা করা যেতে পারে।

লক্ষণ দেখার দেয়ার প্রথম সপ্তাহে ভাইরাসটি ওপরের শ্বসনতন্ত্রে থাকে এবং পরে এটা নিম্ন শ্বসনতন্ত্রে স্থানান্তরিত হয়। এজন্য তিন সপ্তাহ পর্যন্ত মলের নমুনায় ভাইরাসটি শনাক্ত করা যায়। আর এগুলো মূলত ভাইরাল কণা, পুরো ভাইরাস নয়। এগুলো সংক্রমিত করতে পারে না।

দ্য প্রিন্ট