নভেল করোনাভাইরাসের কারণে অন্য রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে হাসপাতালে যেতে অনাগ্রহী হয়ে উঠেছে। ফলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়ে অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। নতুন একটি গবেষণা বলছে, কভিড-১৯-এর কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে আগামী পাঁচ বছরে এইচআইভি, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়াজনিত মৃত্যুর পরিমাণ যথাক্রমে ১০, ২০ ও ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ জার্নালে প্রকাশিত নতুন মডেলিং গবেষণায় এমন আশঙ্কা করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারীটি এরই মধ্যে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে, রুটিন স্বাস্থ্যসম্পর্কিত প্রোগ্রামগুলোকে সীমাবদ্ধ করেছে এবং চিকিৎসা সরবরাহ চেইনগুলো বাধাগ্রস্ত করেছে।

গবেষকরা বলেছেন, এইচআইভি, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ার মূল চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিরোধের পরিষেবাগুলো রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে পারলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর মহামারীটির বিস্তৃত প্রভাব হ্রাস পেতে পারে।

গবেষকরা এটাও সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে চলমান মহামারীর প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা এবং অন্যান্য রোগের বিষয়ে এর প্রতিক্রিয়া অনেক জটিলতায় পরিপূর্ণ। বিশেষত যখন ভাইরাস এবং অন্যান্য রোগের প্রোগ্রামগুলো কতটা ব্যাহত হতে পারে, কীভাবে এটি জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, সে সম্পর্কে এতটাই অজানা।

মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে

অন্য একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, কভিড-১৯-এর লক্ষণ প্রকাশের পর তা মানুষকে একা করে দেয়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকির সম্ভাবনা বেশি থাকে। বিশেষত নারী ও অল্প বয়সীদের মধ্যে এ ঝুঁকি বেশি। যদিও করোনাভাইরাসের সঙ্গে যুক্ত উদ্বেগ, হতাশা ও অনিদ্রার মতো ব্যাধি সম্পর্কে পূর্ববর্তী গবেষণায় বলা হয়েছে, তবুও বিস্তৃত জনসংখ্যার ওপর মহামারীটির মানসিক প্রভাব সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়।

গবেষণাটিতে আদর্শায়িত ও ব্যাপকভাবে স্বীকৃত প্রশ্নাবলির ওপর ভিত্তি করে সাধারণ মানসিক রোগ এবং একাকিত্ব পরিমাপ করা হয়, যা হতাশাগ্রস্ত উদ্বেগের লক্ষণ থেকে শুরু করে আত্মবিশ্বাস ও সামগ্রিক সুখ পর্যন্ত বিভিন্ন কারণ দেখায়। ফলাফলগুলো বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যাদের মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ রয়েছে বা ছিল, তাদের মধ্যে মানসিক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল।

গুরুতর অসুস্থদের মৃত্যুহার কমাতে পারে টসিলিজুমাব

শিশুদের বাতের চিকিৎসায় ব্যবহূত টসিলিজুমাব ওষুধের একটি সিঙ্গেল ডোজ কভিড-১৯-এ গুরুতর অসুস্থ রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি ৪৫ শতাংশ কমাতে পারে বলে একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে। গবেষণাটিতে দেখা গেছে, এ ওষুধে চিকিৎসা করার পর এটা গ্রহণ না করাদের তুলনায় হাসপাতাল থেকে দ্রুত বাড়িতে ফেরা বা ভেন্টিলেটর থেকে দ্রুত বের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ওষুধটি রোগীদের প্রতিরোধক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। কভিড-১৯-এর পাশাপাশি অন্য কোনো সংক্রমণে অসুস্থ হওয়া রোগীদের মধ্যেও ওষুধটি প্রয়োগে মৃত্যুঝুঁকি কম দেখা গেছে।

লালামাস অ্যান্টিবডি করোনাভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে

বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, লালামাস থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টিবডিগুলো ল্যাব পরীক্ষায় কভিড-১৯ ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে। ছোট আকারের কারণে ন্যানোবডি হিসেবে পরিচিত এ অ্যান্টিবডিগুলোকে কভিড-১৯-এ গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে। লালামাস প্রাকৃতিকভাবে একটি সরল কাঠামোযুক্ত ছোট অ্যান্টিবডি তৈরি করে, যা ন্যানোবডিগুলোতে পরিণত হতে পারে। গবেষকরা লালামার রক্তকণিকা থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টিবডি ব্যবহার করে নতুন ন্যানোবডি তৈরি করেছেন।

দ্য প্রিন্ট