নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এর আগে একজন প্রেসিডেন্টের অসুস্থতা ভূমিকা রেখেছিল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বদলে। ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মৃত্যুর মাত্র দুই মাস আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাংকলিন রুজভেল্ট ইয়াল্টা পর্যন্ত ভ্রমণ করে একটি রিসোর্টে পৌঁছলেন সোভিয়েত প্রধান জোসেফ স্টালিন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের সঙ্গে দেখা করার জন্য। এর কিছুদিন পর তিনি পোলিও আক্রান্ত হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যান এবং একপর্যায়ে মারা যান।

ইয়াল্টা ঘোষণায় এই তিন নেতা একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। তারা সম্মত হয়েছিলেন স্টালিনের জার্মানি বিভক্ত করার অনুরোধে, রুজভেল্টের জাতিসংঘের স্বপ্নে এবং এশিয়ান অঞ্চলগুলোকে সোভিয়েতের পরিসরে যুক্ত করতে দেয়ার জন্যে। সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গা ছিল নািসদের কাছ থেকে স্বাধীনতার পর পূর্ব ইউরোপের ভাগ্যে কী ঘটবে তা নির্ধারণ করা নিয়ে। তিন নেতা দেশগুলোকে সব ধরনের গণতান্ত্রিক উপাদান প্রক্রিয়া চর্চার প্রতিশ্রুতি দেন, যেখানে অবাধ নির্বাচনও ছিল। বিশেষ করে পোল্যান্ডে আগাম নির্বাচন দেয়ার জন্য সম্মত হয়েছিলেন স্টালিন।

তবে স্টালিন প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছিলেন, সেই সঙ্গে ইয়াল্টার মূল্যবোধ থেকেও। পোল্যান্ডে তিনি কমিউনিস্ট সরকার নিয়োগ দেন তার রেড আর্মির সমর্থনে। প্রতারিত হওয়ার পর রুজভেল্ট স্টালিনকে চিঠিও লিখেছিলেন।  যেখানে তিনি লিখেন, আমি আপনাকে পরিষ্কারভাবে বলতে পারি যে ওয়ারশতে এ জাতীয় ছদ্মবেশী শাসন চালিয়ে যাওয়ার যে সমাধান তা অগ্রহণযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ এটাকে বিবেচনা করবে ইয়াল্টা চুক্তি ব্যর্থ হয়েছে বলে। এ সময় স্টালিনও অভিযোগ তুলে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন আলাদাভাবে এবং গোপনে নািসদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করার চেষ্টা করছে। যাকে বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেন রুজভেল্ট। মারা যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে তিনি স্টালিনকে লেখেন, আমি আপনার সংবাদদাতাদের প্রতি তীব্র বিরক্তিবোধ এড়াতে পারি না। তারা আমাদের কর্মকাণ্ডের এমন ভুল উপস্থাপনা করে। রুজভেল্ট বলেন, স্টালিন সবার সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে ঠাণ্ডা যুদ্ধ এবং ইউরোপ বিভক্তির বীজ রোপিত হলো। কয়েকদিন পর এপ্রিলের ১২ তারিখ সেরেব্রাল হেমোরেজে মৃত্যুবরণ করেন রুজভেল্ট। পোল্যান্ড তখন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের নতুন ফ্রন্টলাইনে পরিণত হয়েছিল।

ইউরোপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ডব্লিউ আভেরেল হারিম্যান পরে বলেন, আমি বিশ্বাস করি ইয়াল্টাতে তার যথেষ্ট শক্তি ছিল না জেদ দেখানোর জন্য, যেমনটা তিনি ছিলেন। তিনি বলেন, লম্বা আলাপের সময় প্রেসিডেন্ট নিশ্চিতভাবেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। আমি মনে করি যদি তিনি স্বাস্থ্যগত ভালো অবস্থায় থাকতেন তবে আলাপগুলো দীর্ঘ সময় ধরে চলত এবং তিনি ওখান থেকে আরো বিস্তারিত পয়েন্ট নিয়ে বেরুতেন।

নিউ ইয়র্কার থেকে সংক্ষেপে অনূদিত