নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনীতি খুলে দেয়া হচ্ছে। সংক্রমণ কমলেও কভিড-১৯-এ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দেশটি এখনো হুমকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে রেস্তোরাঁগুলো খুলতে শুরু করেছে। কেবল ম্যাসাচুসেটস, নিউ জার্সি ও নিউইয়র্ক বাদে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের রেস্তোরাঁগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ স্পেস ও বহিরঙ্গন খাওয়া-দাওয়ার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

যেহেতু সংক্রমণ চলমান অবস্থায় তারা রেস্তোরাঁগুলো খুলেছে, তাই তাদের ধারণক্ষমতা কমিয়ে এবং জননিরাপত্তা বিধিগুলো মেনেই এগিয়ে যেতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অনেক রেস্তারাঁ বিশেষভাবে সৃজনশীলও হয়ে উঠছে।

মেরিল্যান্ডের ওশেন সিটিতে ‘ফিশ টেলস’ রেস্তোরাঁ সামাজিক দূরত্ব মেনে খাওয়ার জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু করেছে। প্রতিজন ক্রেতার জন্য তারা এমন একটা গোল টেবিলের ব্যবস্থা করেছে, যেটার মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে খেতে হবে এবং এটার সঙ্গে চাকা লাগানো থাকায় ক্রেতারা রেস্তোরাঁটির চারপাশে ঘুরে ঘুরে খেতে পারবেন। টেবিলটি কোথায় ধাক্কা লাগলে বা কাউকে ধাক্কা দিলে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সেটার চারপাশে মোটা টিউব লাগানো রয়েছে। টেবিলের মধ্যে থেকেই সামাজিক দূরত্ব মেনে তারা একে অন্যকে চিয়ার্স বা হ্যালো বলতে পারছেন। ইউটিউবে একটা ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্রেতারা খুব মজা করে টেবিলগুলো নিয়ে ঘুরে ঘুরে খাচ্ছেন।

নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ফিনবার্গ স্কুল অব মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক জালিন জেরার্ডিন বলেন, বাম্পার টেবিলগুলো আসলেই অনন্য এবং মজার ধারণা। তবে এখানেও কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। আপনি সেখানে কথা বলতে পারেন এবং সংক্রমিত ড্রপলেট নিজের বা অন্যের টেবিলে ছড়িয়ে দিতে পারেন। এভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রেস্তোরাঁর বাইরে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রেও আরো বেশি দূরত্ব রাখা ভালো। ভার্জিনিয়ার ভিয়েনায় নিউ আমেরিকান রেস্তোরাঁর শেফ জোনাথন ক্রিন পার্কিং লটকে ড্রাইভ ইন ডাইনিংয়ে রূপান্তরিত করেছেন। তিনি সেখানে নয় ফুট করে দূরত্ব বজায় রেখে ১৬টি ডাইনিংস্পট সাজিয়েছেন। প্রতি স্পটে সর্বোচ্চ দুজন একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করতে পারবেন আর পরিবার হলে চারজন। খাওয়া শেষে চেয়ার-টেবিলগুলোকে পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে।

শিকাগো, ম্যাডিসন, ট্যাম্পা, সিনসিনাটি, আটলান্টা এবং আরো কিছু শহরও একইভাবে আউটডোর ডাইনিং বা রেস্তোরাঁর বাইরের জায়গাগুলোয় খাবার পরিবেশনের পরিকল্পনা করছে। এ মাসে আমস্টারডামে মেডিয়াটিক ইটেন রেস্তোরাঁয় ছোট ছোট কাচের ঘর তৈরি করে সেটার মধ্যে গ্রাহকদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। ঘরগুলো কেবল দুজন গ্রাহক একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করতে পারেন। আর ছোট দরজা দিয়ে লম্বা কাঠের পাতের ওপর গ্রাহকদের জন্য খাবার দেয়া হচ্ছে। এ পদ্ধতি গ্রাহক ও রেস্তোরাঁকর্মী উভয়ের জন্যই ঝুঁকিমুক্ত বলে জানান জালিন জেরার্ডিন।

রেস্তোরাঁগুলো গ্রাহকদের জন্য খুলে দেয়ার পাশাপাশি তাদের ধারণক্ষমতা অঙ্গরাজ্যভেদে ৩০ থেকে ৫৫ শতাংশ কমিয়ে আনতে হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিল পাঁচ থেকে আট ফুট করে দূরত্ব রাখতে হচ্ছে।

জেরার্ডিন বলেন, সামাজিক দূরত্ব মেনে ধারণক্ষমতা হ্রাস করা ভালো, তবে তা পুরোপুরি সংক্রমণ প্রতিরোধী নয়। তাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হতে পারে আউটডোর ডাইনিং। চীনের অভ্যন্তরীণ একটি স্থানে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি শীতাতপ যন্ত্রের প্রবাহে বসে ছিলেন এবং তার পেছনে যারা ছিলেন, সবাই আক্রান্ত হয়েছেন। তবে শীতাতপের বাইরে থাকা মানুষগুলোর সংক্রমণ হয়নি। তাই মনে রাখতে হবে রেস্তোরাঁর ভেতরে কম মানুষ ঝুঁকি কিছুটা কমিয়ে আনলেও সেটা পুরোপুরি সংক্রমণ প্রতিরোধী নয়।

স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন