নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর শুরু থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু খাবার নিয়ে হইহুল্লোড় পড়ে যাচ্ছে। একেক সময় একেক খাবার উল্লেখ করে দাবি করা হচ্ছে, সেটা করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট কভিড-১৯ প্রতিরোধ বা নিরাময় করতে পারে। এমন দাবির ফলে মুহূর্তেই বাজারে সে খাবারের সংকট তৈরি হচ্ছে এবং আকাশছোঁয়া দাম হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ‘অলৌকিক’
খাবারগুলোসহ কভিড-১৯ ঘিরে এ ধরনের পৌরাণিক কাহিনী দূর করার চেষ্টা করছে। তার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যাচ্ছে না। যদিও সবাই কভিড-১৯ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চায়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ নেই যে নির্দিষ্ট কোনো খাবার বা ডায়েট করোনাভাইরাস থেকে আপনাকে রক্ষা করতে পারে।
রসুন: কিছু প্রমাণ রয়েছে যে রসুনের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রভাব রয়েছে। বিদ্যমান কয়েকটি গবেষণায় বলা হচ্ছে, রসুনের সক্রিয় যৌগগুলো সালমোনেলা ও স্ট্যাফিলোকক্কাস অরিয়াসের মতো ব্যাকটেরিয়াগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক প্রভাব তৈরি করতে পারে। যদিও রসুনের অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য গবেষণার তদন্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। রসুনকে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে কোনো প্রমাণ নেই যে এটা কভিড-১৯ প্রতিরোধ করতে পারে।
লেবু: কভিড-১৯ প্রতিরোধ বা সারিয়ে তুলতে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি দাবি করা হয়েছে লেবুকে কেন্দ্র করে। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস পান করে করোনাভাইরাস মোকাবেলা করা যায়। তবে লেবু কভিড-১৯ নিরাময় করতে পারে—এমন দাবির বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমাণ নেই। লেবু ভিটামিন সি-এর ভালো একটি উৎস। ভিটামিন সি শরীরের প্রতিরোধক কোষগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। তবে লেবু ছাড়াও অনেক সাইট্রাস ফল ও সবজিতে ভিটামিন সি রয়েছে।
ভিটামিন সি: আগে যেমন বলা হয়েছে, ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপে ভূমিকা রাখে বলে পরিচিত। তবুও এটা কেবল একমাত্র পুষ্টি নয় যে প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখে। এমন অনেক খাবার আছে, যেগুলো প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। ভিটামিন সি নিয়ে এমন দাবিগুলো এসেছে কিছু গবেষণাকে কেন্দ্র করেই। কয়েকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, সাধারণ ঠাণ্ডা সারিয়ে তোলার সঙ্গে ভিটামিন সি-এর সম্পর্ক রয়েছে। যদিও সাধারণ ঠাণ্ডা ও করোনাভাইরাসের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। সুতরাং ভিটামিন সি কভিড-১৯ প্রতিরোধ বা সারিয়ে তুলতে পারে, এমন কোনো প্রমাণ নেই।
ক্ষারযুক্ত খাবার: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভুল তথ্য ছড়ানো হয় যে ভাইরাসটির পিএইচ ৭ দশমিক শূন্যের চেয়ে উচ্চতর পিএইচযুক্ত খাবার খেলে ভাইরাস নিরাময় সম্ভব। ৭ দশমিক শূন্যের নিচের পিএইচকে অ্যাসিডিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, ৭ দশমিক শূন্য পিএইচকে নিরপেক্ষ এবং পিএইচ ৭ দশমিক শূন্যের উপরে ক্ষারীয় হয়। সেখানে দাবি করা হয় লেবু, বাতাবি লেবু, কমলা, হলুদ চা ও অ্যাভোকাডোর মতো ক্ষারযুক্ত খাবার করোনা ‘নিরাময়’
করতে পারে। যদিও এগুলোর বিষয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
কিটো ডায়েট: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, উচ্চ ফ্যাট ও কম শর্করাযুক্ত কিটো ডায়েট কভিড-১৯ প্রতিরোধ করতে পারে। বর্তমানে এটারও কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
এসব ভুল তথ্য ছড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএ) জানিয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট খাবার বা পরিপূরক কাউকে করোনাভাইরাস হওয়া থেকে আটকাতে পারে না। ডব্লিউএইচওর পরামর্শের মতো বিডিএ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাটি ঠিক রাখতে স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণের পরামর্শ দেয়।
সায়েন্স অ্যালার্ট





