ভুল তথ্য ও সংক্রামক রোগের একই ধারায় প্রবাহিত হওয়ার বিষয়টি কভিড-১৯-এর জন্য একেবারে স্বতন্ত্র কিছু নয়। এর আগে ভুল তথ্য উত্তর আফ্রিকায় ইবোলার বিস্তৃতিতেও ভূমিকা রেখেছিল। এছাড়া অন্যান্য মহামারীতেও ভুল তথ্য বা গুজবের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল জনস্বাস্থ্য। কিন্তু কভিড-১৯ মহামারীর ক্ষেত্রে একে সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে ভুল তথ্যের সুনামি বলে। যেখানে মাস্ক পরার উপযোগিতা, স্কুল বন্ধের কার্যকারিতা, সামাজিক দূরত্বের গুরুত্ব থেকে শুরু করে অপ্রমাণিত প্রতিকারের বিষয় নিয়েও ভুল তথ্যের ভাণ্ডার সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের গবেষণা অনুযায়ী যে অঞ্চলে টেলিভিশনের প্রোগ্রামগুলো মহামারীর তীব্রতাকে পাত্তা দেয়নি, সেখানে অধিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কারণ মানুষ জনস্বাস্থ্যের বিধিগুলো ঠিকঠাকভাবে মেনে চলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে ভুল তথ্য বা গুজব মিডিয়ার বিভিন্ন উপাদানের মাধ্যমে বিস্তৃত হয়। যা ছড়াতে ভূমিকা রেখেছেন নেতা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। এদিকে শীত এগিয়ে আসছে এবং মানুষ আরো বেশি সময় ইনডোরে কাটাবে। ফলে এখনই ভয়াবহ কিছু ঘটার আশঙ্কা দেখছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভুল তথ্য থামানো আমাদের জন্য অধিকতর জরুরি এবং স্পষ্টভাবে জনগণকে ঝুঁকি সম্পর্কে জানানোও।
এদিকে আমরা এখন ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষা করে আছি। তাই জনগণকে তথ্যভাণ্ডার দিয়ে প্রস্তুত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের করার মতো অনেক কাজ আছে: সম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেবল অর্ধেক জনগণ ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য রাজি হয়েছে।
ভুল তথ্যের জোয়ারকে থামাতে বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়, জনস্বাস্থ্য কর্মীসহ সাধারণ মানুষ বেশকিছু উদ্যোগ নিতে পারে, যা রাখতে পারে কার্যকর ভূমিকা।
একটি আগ্রাসী ও স্বচ্ছ প্রচেষ্টা হতে পারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারের যৌথ সহযোগিতা। যেখানে কভিড-১৯-সংক্রান্ত নিশ্চিত ভুল তথ্যগুলো সরিয়ে ফেলা বা মুছে দেয়া হবে।
ভুল তথ্য মুছে ফেলার সঙ্গে জনস্বাস্থ্যে বার্তা দেয়ার একটা ক্যাম্পেইন শুরু করা যেতে পারে। যা প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে ভিন্নতর হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জনপ্রিয়, কারণ এখানে ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংস্থা নানামুখী আলাপে যুক্ত হতে পারে। অবশ্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের থেকে আসা বার্তাকে সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি পর্যালোচনার ভেতর দিয়ে আসতে হয়। তাই এদিক বিবেচনা করে, ভুল তথ্যকে রুখতে প্রয়োজন হচ্ছে কিছু মানদণ্ড ও নির্দেশনা ঠিক করা, যা তুলনামূলকভাবে সঠিক সময়ে জনস্বাস্থ্য কর্তাদের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে দেবে।
সায়েন্টিফিক আমেরিকান থেকে সংক্ষেপে অনূদিত





