মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে শুরু করে অর্থনীতি সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলেছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসা কমেছে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। পেনসিলভানিয়ার এক ভাটিখানার মালিক সিয়েন ক্যাসি বলেন, আগামী গ্রীষ্ম পর্যন্ত গিয়ে আমরা দেখব, কোনো ধরনের মুনাফা ছাড়াই আমরা ১৭ মাস কাটিয়েছে।

এ কথাগুলো আরো হাজারো রেস্টুরেন্টের জন্যও সমানভাবে সত্য। পাশাপাশি এ পরিপ্রেক্ষিতে যে প্রশ্নটি সবার সামনে উত্থাপিত হয়েছে তা হলো, যদি আমেরিকার শহর এলাকা থেকে রেস্টুরেন্টগুলো হারিয়ে যায় তবে কী হবে? অবশ্য এখানে আমেরিকা কেবল একটি উদাহরণমাত্র। পৃথিবীতে গুরুতরভাবে মহামারী আক্রান্ত সব অঞ্চলের জন্য প্রশ্নটি একইভাবে প্রযোজ্য।

একটি জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকার ডাইনিং-আউট ক্যাপিটেল হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক সিটিতে আগস্ট মাসে ৮৭ শতাংশ রেস্টুরেন্ট ভাড়া প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে। সেপ্টেম্বরে করা একটি সমীক্ষা বলছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে শহরের ২৪ হাজার রেস্টুরেন্টের এক-তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ৪৩ শতাংশ বার বন্ধ ছিল ৫ অক্টোবর। যেসব রেস্টুরেন্ট খোলা আছে সেগুলোতে ২০১৯ সালের একই দিন থেকে আয় হ্রাস পেয়েছে ৮০ শতাংশ।

সাহায্যের জন্য হন্যে হয়ে নতুন করে স্বাধীন রেস্টুরেন্ট জোট গঠন করা হয়েছে, যেখানে বড় চেইনের সঙ্গে যুক্ত নয় এমন রেস্টুরেন্টগুলো টিকে থাকার জন্য তদবির করছে। সেই সংগঠন থেকে গত জুনে কংগ্রেসকে পাঠানো একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, এ বছরের শেষ নাগাদ দেশের ৮৫ শতাংশ স্বাধীন রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সবচেয়ে ভোগান্তিতে আছে বড় শহরের ডাউনটাউন রেস্টুরেন্টগুলো। অন্যদিকে আমেরিকার বড় শহর এবং তাদের ডাউনটাউনগুলো মৌলিক সামাজিক যোগাযোগের জন্য রেস্টুরেন্টের ওপর নির্ভর করে। তাই এখানে ক্ষতির শোক সবচেয়ে তীব্রভাবে অনুভূত হবে।

সরকারি পরিসংখ্যান মতে, ২০১৯ সালে রেস্টুরেন্ট, বার, ফুড ট্রাক্স এবং অন্যান্য ডাইনিং আউটলেট ২.৫ মিলিয়ন জনগণের খাদ্য বাজেটের অন্তত ৪৭ শতাংশ তাদের আয় হিসেবে পেয়েছিল। বিপরীতে ১৯৭০ দশকের শুরুর দিকে শহুরে গ্রাহকরা তাদের খাদ্য বাজেটের ২৮ শতাংশ ডাইনিং আউটের জন্য ব্যয় করেছিল।

আমেরিকার নাগরিক রূপান্তরের সবচেয়ে মৌলিক উপাদানটি হলো রেস্টুরেন্ট। এটি শিল্প ও গুদামজাতকারী অঞ্চলকে আবাসিক এলাকায় রূপান্তর করেছে। এটি অনেক সময় আশপাশের প্রতিবেশী এলাকাগুলোকেও নিজ দখলে নিয়ে নিয়েছে এবং কখনো কখনো দীর্ঘকালীন বাসিন্দাকেও শহরের বাইরে চলে যেতে বাধ্য করেছে।

নিউইয়র্ক টাইমস